দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে লন্ডনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর হেলিকপ্টারে চড়ে তারা যান উইনফিল্ড হাউজে, যা লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সরকারি বাসভবন। দেশটিতে এটি দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর ট্রাম্পের, যা কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্টের জন্য নজিরবিহীন। সফরকালে রাজা তৃতীয় চার্লস, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ অন্য নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার উইনসর ক্যাসেলে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানী ক্যামিলা। এ সময় ১ হাজার ৩০০ সেনাসদস্য ও ১২০টি ঘোড়া নিয়ে ট্রাম্পকে বিশেষ গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পাশাপাশি লন্ডন টাওয়ার ও উইনসরে একযোগে বন্দুক স্যালুট হয়। এরপর এক আড়ম্বরপূর্ণ ভোজসভায় অংশ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
লন্ডনে পদার্পণের আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। চার্লস এখন রাজা, তিনি আমার বন্ধু। এই প্রথম এমনটি ঘটল, যেখানে কাউকে দুবার সম্মান জানানো হলো। লন্ডনে ট্রাম্পকে লালগালিচা সংবর্ধনাসহ যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান গার্ড অফ অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। ট্রাম্প লন্ডনে পৌঁছোনোর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস দুদেশের মধ্যে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চুক্তির কাজ এগিয়ে রাখেন। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে একটি ‘ট্রান্স-আটলান্টিক টাস্কফোর্স’ গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের কার্যালয় থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সম্পর্ক। এর পেছনে ২৫০ বছরের ইতিহাস আছে। এদেশে ট্রাম্পের এই সফর ট্রান্স-আটলান্টিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
আজ বৃহস্পতিবার চেকার্সে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সেখানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জাতীয় নিরাপত্তা, ভূ-রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। উঠতে পারে ইউক্রেন প্রসঙ্গও। ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে ট্রাম্প ইউক্রেন নিয়ে কথা বলেছিলেন। পাশাপাশি, রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার জন্য আবার ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেছিলেন তিনি। সে কারণেই ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফরে ইউক্রেন-রাশিয়া প্রসঙ্গ আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে রাজকীয় আয়োজন থাকলেও রাস্তায় চলছে বিক্ষোভ। উইনসর ও লন্ডনে শত শত মানুষ ট্রাম্পবিরোধী সেøাগান দেন। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান গার্ডিয়ানে লেখা নিবন্ধে অভিযোগ করেন, ট্রাম্প বিভাজনমূলক ডানপন্থি রাজনীতিকে উসকে দিয়েছেন। তার মতে, সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা ও সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ ‘স্বৈরশাসকের কৌশল’। ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের ছবি প্রজেক্টর দিয়ে ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের দেয়ালে প্রদর্শন করেছে বিক্ষোভকারীরা। ব্রিটেনে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘিরে ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রয়টার্স জানায়, উইন্ডসর ক্যাসলে অনুমোদনবিহীন প্রদর্শনীর পর ‘ক্ষতিকর যোগাযোগের’ সন্দেহে চারজন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের থানায় পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্প ব্রিটেনে পৌঁছানোর আগে ট্রাম্প ও এপস্টেইনের ছবি সংবলিত বিশাল ব্যানার নিয়ে উইন্ডসর ক্যাসলের কাছে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় ক্যাসলের দেয়ালে প্রজেক্টর দিয়ে ট্রাম্প ও এপস্টেইনের কিছু ছবিও প্রদর্শন করা হয়। এপস্টেইনের কর্মকাণ্ডের ভুক্তভোগী, মামলা সংক্রান্ত খবরের ক্লিপ এবং পুলিশের প্রতিবেদনের ছবিও দেয়ালে প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া একটি চিঠির ছবিও দেখানো হয় দেয়ালে। এই চিঠি এপস্টেইনকে ট্রাম্প লিখেছিলেন বলে প্রচারণা রয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি জনসম্মুখে প্রকাশ করে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। প্রায় ২০ বছর আগে লেখা ওই চিঠি এপস্টেইনের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখা হয়েছিল।