অপচেষ্টা প্রতিরোধে প্রস্তুতি থাকতে হবে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের ষড়যন্ত্রের অবসান যে হয়নি তার জলজ্যান্ত উদাহরণ আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি। সুতরাং এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে এমন যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রতিরোধের প্রস্তুতি রাখতে হবে।’

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তারেক রহমান এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘দুর্গাপূজা’ সমাগত। উৎসবের প্রাক্কালে আমি সনাতন ধর্মাবলম্বী সব ভাই-বোনকে আমার আন্তরিক শুভ কামনা জানাচ্ছি। ঐতিহ্যগতভাবে সবার সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘেœ উদযাপনের মাধ্যমে এদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনুপম দৃষ্টান্ত ইতিমধ্যেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে পলাতক বিগত স্বৈরশাসনের সুবিধাভোগীরা দুর্গোৎসবের সময় হীন ও অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে একাধিকবার ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিষ্ঠিত এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি, সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণের সহায়তায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। এদেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি সুপ্রতিষ্ঠিত রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং তা বিনষ্টকারী যে কোনো ঘৃণ্য অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান দৃঢ় ও সুস্পষ্ট।’

গতকাল দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত পৃথক বিবৃতিতে দুর্গাপূজায় কেউ যাতে নাশকতা সৃষ্টি না করতে পারে সে জন্য দলীয় নেতাকর্মীসহ জনসাধারণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সমমনা দল ও আপামর জনগণকে সজাগ থাকার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। যাতে শান্তি ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা নির্বিঘেœ সম্পন্ন হতে পারে। বিএনপির নেতাকর্মীদের সারা দেশের পূজামন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশের অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায় ও বিএনপির সব নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা সমান স্বচ্ছন্দে, সমান উৎসাহে নিরাপত্তা সহকারে পূজার আনন্দ যাতে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারে সেক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করতে হবে।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রাক্কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিনন্দন জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘একটি জাতিগোষ্ঠীর যে কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব সব সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দময় শুভেচ্ছাবোধে উদ্দীপ্ত করে। বাংলাদেশেও যুগ যুগ ধরে মহিমান্বিত মর্যাদায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়ে আসছে। কখনো কখনো স্বার্থান্বেষী মহল হীনস্বার্থে একটি দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাস ও ভরসার ভিত্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করে। সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের মাধ্যমে একটি জাতির ভেতরে সাম্প্রদায়িক বিভাজন রেখা টেনে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে। অবিশ্বাস এবং আস্থার বিষাক্ত বীজ বপন করে অসৎ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করে।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই উৎসবে শুরু হবে ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্যে দিয়ে। শারদীয়া দুর্গাপূজার প্রতিপদ তিথি অনুযায়ী মহাষষ্ঠী ২৮ সেপ্টেম্বর, ২৯ সেপ্টেম্বর মহাঅষ্টমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মহানবমী এবং ১ অক্টোরব বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে।