এনবিআরের একটি ইসির দুই আইন সংস্কারে অনুমোদন

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দুটি আইন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আইন সংশোধনের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সংশোধনীর খসড়া অনুমোদন হয়েছে।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশন বিশেষ বিধান-১৯৯১-এর সংস্কারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে, যেখানে অবহেলাকারীদের জন্য জবাবদিহি ও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এর স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করতে যারা দায়িত্বে থাকবেন, তাদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসব সংশোধনের কারণে নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের কাজে গতি পাবে। খুব দ্রুত তারা অনেক পদক্ষেপ নিতে পারবেন। নির্বাচনকালে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা এবং শাস্তির বিধান রাখা। আগে শাস্তির বিষয়টা স্পষ্ট ছিল না।

শফিকুল আলম জানান, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১-এর সংশোধনে ধারা ২, ধারা ৫ ও ধারা ৬-এ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কর্মকর্তার সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ, শৃঙ্খলামূলক শাস্তিসংক্রান্ত ধারা হালনাগাদ এবং নতুন উপধারা সংযোজন ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এনবিআর-সংক্রান্ত আইনের সংশোধনীর বিষয়ে তিনি বলেন, এনবিআর আইনে যে পরিবর্তন আসছে সেটা হচ্ছে ভ্যাট ও ইনকাম ট্যাক্স-সংক্রান্ত। প্রাতিষ্ঠানিক ট্রেজারি বন্ডের ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। অর্থসংক্রান্ত কতিপয় আইন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

‘পাশাপাশি আয়কর আইন ২০২৩-এ সংশোধনের মাধ্যমে সরকারি সিকিউরিটি বা অনুমোদিত সিকিউরিটিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানি করদাতার উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত বাস ও পরিবহন খাতে কর সংগ্রহকে চূড়ান্ত করযোগ্য আয় হিসেবে গণনা করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে’ বলেন শফিকুল আলম।

বৈঠকে চলমান সংস্কার পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ১২১টি সংস্কার নিয়ে প্রথম ধাপে কাজ শুরু হয়েছিল। বৈঠকে জানানো হয় যে, ৭৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের মধ্যে ২৪টি ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে ১৪টি। বাকিগুলো বাস্তবায়নের পথে।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা সভায় নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কারের পাশাপাশি নিজেদের উদ্যোগে সম্পন্ন সংস্কারগুলোর একটি তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করে জমা দেবে। আগামী মাসের মধ্যে এসব তথ্য একত্র করে একটি সংকলন প্রকাশ করা হবে, যাতে সংস্কারের পূর্ণ চিত্র সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

শফিকুল আলম জানান, বৈঠকে সংস্কার নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয় এবং আশা করা হচ্ছে, আগামী মাসের শুরুতেই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেবে। এরপর ক্যাবিনেট বিভাগ সেটি একটি বুকলেট আকারে প্রকাশ করে সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দেবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আশা করছে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণেই রাজনৈতিক নেতারা যুক্তরাষ্ট্রে তার সফরসঙ্গী : প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাষ্ট্র সফরে চার রাজনৈতিক নেতা সফরসঙ্গী হওয়ার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা আমাদের অংশীদার। প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে তারা সঙ্গী হচ্ছেন।’

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এবার তার সফরসঙ্গীর তালিকায় চার রাজনৈতিক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাদের মধ্যে বিএনপির দুজন, জামায়াতের একজন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন নেতা রয়েছেন।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।