মৃত্যুদূত হয়ে ঢুকছে ট্যাংক

গাজা সিটির একটি প্রধান আবাসিক এলাকায় কয়েক ডজন ইসরায়েলি ট্যাংক এবং সামরিক বাহন ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা। বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের স্থল অভিযানের দ্বিতীয় দিনেই গাজা শহর দখলের লক্ষ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ট্যাংক, বুলডোজার এবং সাঁজোয়া যানগুলো উত্তর গাজা সিটির শেখ রাদওয়ানের পথে চলেছে।নিজেদের অগ্রযাত্রাকে আড়াল করার জন্য ইসরায়েলি বাহিনী কামানের গোলা এবং স্মোক বোম নিক্ষেপ করায় চারদিকে মেঘের মতো ঘন ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।

যুদ্ধের আগে শেখ রাদওয়ান জেলায় কয়েক হাজার মানুষের বসবাস ছিল। এটি সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। যদিও ইসরায়েল এলাকাটিকে ‘সবশেষ শক্ত ঘাঁটি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে এ অভিযানের ব্যাপক নিন্দা করা হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফামসহ ২০টির বেশি প্রধান দাতা সংস্থার নেতারা বলেছেন, গাজার পরিস্থিতি অমানবিক, বিবেকহীন।

গত বুধবারের অনুপ্রবেশের পর আশপাশের ভবন এবং প্রধান সড়কগুলোয় ভারী বিমান হামলা চালানো হয়, যা স্থল অভিযানের প্রস্তুতি বলে মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শেখ রাদওয়ানের বাসিন্দারা। তারা জানান, সোলার প্যানেল, বিদ্যুৎ, জেনারেটর, পানির ট্যাংক, এমনকি ইন্টারনেট নেটওয়ার্কেও আঘাত করেছে ইসরায়েলি ড্রোন। বিবিসি বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এই শেখ রাদওয়ান এলাকায় বেশ কয়েকবার বিমান হামলার শিকার হয়েছে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। তবে এলাকার একদম ভেতরে ট্যাংকের উপস্থিতি এখন ইসরায়েলের স্থল অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য নতুন ধাপ। গত বুধবার সকালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ঘোষণা করেছে, স্থল বাহিনীকে সাহায্য করতে দুদিনে তারা গাজা সিটি জুড়ে দেড়শটির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অভিযানের অংশ হিসেবে তারা আইডিএফ বিস্ফোরক ভর্তি পুরনো সামরিক যানবাহন ব্যবহার করছে। যেগুলোকে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সংস্কার করা হয়েছে। এই যানবাহনগুলো হামাসের ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে।

তবে দাতা সংস্থা, জাতিসংঘের সংস্থা এবং বিশেজ্ঞরা বলছেন, যেসব জায়গায় সাধারণ মানুষ থাকবে, আশ্রয় নেবে, ভিড় করবে সেখানেই ‘মানবিক এলাকা’ হবে।

সেখানকার বাসিন্দা নিদাল আল শেরবি বিবিসি অ্যারাবিকের মিডল ইস্ট ডেইলি প্রোগ্রামকে বলেছেন, ‘গত রাতটি খুব কঠিন ছিল, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত অবিরত বিস্ফোরণ এবং গোলাগুলি অব্যাহত ছিল। ইসরায়েলি যানবাহন শেখ রাদওয়ান, তাল আল-হাওয়া এবং সেজাইয়া থেকেও অগ্রসর হয়েছে। এটিা খুবই, খুবই ভয়াবহ রাত ছিল।’

সেনাবাহিনীর নির্দেশ মেনে ওই অঞ্চলে চলে যাওয়া কয়েকজন বলেন, তারা তাবু খাটানোর জন্য কোনো জায়গা পাননি, তাই উত্তরদিকে ফিরে এসেছেন তারা। উত্তর গাজায় থাকা মুনির আজ্জাম বলেন, ‘জায়গা খালি করার জন্য প্রতিদিন আমাদের দিকে লিফলেট ছুড়ে মারা হচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রতিটা দিকের ভবনের ওপর গুলিবর্ষণ করছে। কিন্তু আমরা কোথায় যেতে পারি? দক্ষিণে আমাদের কোনো আশ্রয় নেই।’