আফগানিস্তানের বাগরামে অবস্থিত এয়ার বেস তালেবানদের কাছ থেকে ফিরিয়ে আনার উপায় খুঁজতে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন ব্যক্তি সিএনএনকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার প্রথম প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান যে, তার প্রশাসন বেসটি পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বেসটি কাবুলের প্রায় এক ঘণ্টা উত্তরে অবস্থিত। ২০২১ সালে আফগান সরকারের পতন ও দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান এটি দখল করে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটি (তালেবানকে) বিনামূল্যে দিয়েছিলাম। আমরা এটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। সূত্রগুলো সিএনএনকে জানিয়েছে, বেসটি আবার যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার আলোচনা চলতি বছরের মার্চ থেকে চলছিল। ট্রাম্প এবং তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মনে করেন কিছু কারণে বেসটি নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আর এর অন্যতম কারণ হলোÑ চীনকে নজরদারিতে রাখা। ওই বেস থেকে চীনের সীমানার দূরত্ব ৫০০ মাইলেরও কম। এছাড়া আফগানিস্তানের বিরল মাটির উপাদান এবং খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার; আইএস-কে লক্ষ্য করে একটি সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্র স্থাপন এবং সম্ভাব্যভাবে একটি কূটনৈতিক সুবিধা পুনরায় খোলা।
তবে বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তালেবান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কীভাবে আলোচনা করছে তা স্পষ্ট নয়। তবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এখনো কিছু প্রভাব রয়েছে। বাকিংহামশায়ারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, আমরা এটিকে ফেরত আনার চেষ্টা করছি কারণ তাদেরও (তালেবান) আমাদের কাছ থেকে কিছু প্রয়োজন। আমরাও বিমান ঘাঁটিটি ফেরত চাই। গত মার্চে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমরা আফগানিস্তান ছাড়লেও বাগরামের নিয়ন্ত্রণ রাখার পরিকল্পনা করেছিলাম। চীন যেখানে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে এই বিমানঘাঁটি সেই স্থান থেকে এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত।
কিন্তু ট্রাম্পের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জাকির জালালি শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আফগানিস্তান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছে। কিন্তু কোনোভাবেই আমেরিকান সেনাদের আফগানিস্তানে আসতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসা উচিত। কিন্তু আফগানিস্তানের কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের উপস্থিতি ছাড়া এটি করতে হবে। কাবুল পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রস্তুত।