আরও দুটি প্যানেল ভিপি পদে ২৫ প্রার্থী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্যাম্পাসে তৎপরতা বেড়েছে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে। গত বৃহস্পতিবার অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন তাদের চাকসু নির্বাচনের প্যানেল ঘোষণা করেছে। গতকাল শনিবার আরও দুটি প্যানেলের ঘোষণা এসেছে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের চাকসু নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে তুমুল প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভিপি পদে ২৫ প্রার্থী : চাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত। কেন্দ্রীয় সংসদের এই পদে ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৪২৯ জন প্রার্থী কেন্দ্রীয় সংসদের বিভিন্ন পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ভিপি পদের পর জিএস ও এজিএস পদেও তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২২ জন করে প্রার্থী লড়বেন। এ ছাড়া, অন্যান্য পদের মধ্যে খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১২ জন, সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১৫, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৮, সহ-সাহিত্য,

সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৬, দপ্তর সম্পাদক পদে ১৮, সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে ১৪, ছাত্রী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পদে ১২, সহ-ছাত্রী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পদে ১১, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে ১১, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক পদে ১৩, সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক পদে ২০, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক পদে ১৭, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক পদে ১৭, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে ১৬, যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক পদে ২০, সহ-যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক পদে ১৪, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ এবং পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ২১ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাহী সদস্য পদে ৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

আরও দুটি প্যানেল ঘোষণা : গত বৃহস্পতিবার অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন প্যানেল ঘোষণার পর গতকাল আরও দুটি প্যানেল ঘোষিত হয়েছে। ফলে ১২টি প্যানেল চাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে। ছাত্র অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস যৌথভাবে ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে একটি প্যানেল ঘোষণা করেছে। গতকাল দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ঝুপড়িতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই প্যানেল ঘোষণা করা হয়। এই প্যানেলে ভিপি পদে ছাত্র অধিকার পরিষদ চবি শাখার আহ্বায়ক তামজিদ উদ্দিন, জিএস পদে ইসলামী ছাত্র মজলিস চবি শাখার সভাপতি সাকিব মাহামুদ রুমি এবং এজিএস পদে ছাত্র অধিকার পরিষদ চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রোমান রহমান মনোনীত হয়েছেন।

অন্যান্য পদে মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. সবুজ, সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে দেওয়ান রহমান, সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সিয়াম আল ইহসান, দপ্তর সম্পাদক পদে তৌহিদুল ইসলাম (সাঈদ), সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে শাফিন রহমান, ছাত্রী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পদে সানজিদা আক্তার শিপু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে মাজহারুল ইসলাম (শুভ), গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক পদে তৌহিদুল ইসলাম সুহান, সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক পদে মেহেদী হাসান, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক পদে জহিরুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক পদে জিয়াউদ্দিন সায়েম, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে নাজমুস সাদাত মো. সায়েম, যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক পদে মো. নাজমুছ ছাকিব, সহ-যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক পদে রায়হান আব্দুল্লাহ, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক পদে ইয়াছিন আরাফাত এবং পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে মো. মারুফ। নির্বাহী সদস্য পদে মনোনীত হয়েছেন মো. মুজাহিদুল্লাহ (মুজাহিদ), কাজী বেলাল হোসেন, আবিদ হাসান ও সালমান মাহাম্মদ সজিব।

এ ছাড়া বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট, চবি শাখা, ‘রেভল্যুশন ফর স্টেট অব হিউম্যানিটি’ নামে পাঁচ সদস্যের একটি প্যানেল ঘোষণা করেছে। গতকাল দুপুর ১২টায় চাকসু ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এই প্যানেল ঘোষিত হয়। এই প্যানেলে ভিপি পদে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী কেফায়েত উল্লাহ, জিএস পদে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী শাহরিয়ার উল্লাহ, এজিএস পদে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জোনায়েদ শিবলী, দপ্তর সম্পাদক পদে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী তাহসীন কারিমুল ইসলাম এবং যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক পদে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিহা তাহসিন শ্রীজা নির্বাচন করবেন।

চাকসুর অনার বোর্ডে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম পুনর্লিখন : ১৯৭২ সালে চাকসু নির্বাচনে জাসদ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তখন থেকে চাকসুর অনার বোর্ডে তার নাম ছিল। কিন্তু ১০ বছর আগে শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তার নাম কালো কালি দিয়ে মুছে দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনে অতিথি ছিলেন এই ছাত্রনেতা, তবু অনার বোর্ডের কালো কালি মোছা হয়নি। চাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরুর পর সম্প্রতি তার নাম আবার অনার বোর্ডে লেখা হয়েছে। ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শাখা ছাত্রলীগের নেতা এম এ খালেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী চাকসু ভবনের তৃতীয়তলায় সাবেক জিএসদের তালিকা থেকে মান্নার নাম কালো কালি দিয়ে মুছে দেন। একই সময় মান্নাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে চাকসুর সংগ্রহশালায় টানানো তার ছবি খুলে ফেলা হয়। এ ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোস্তফা সাইফুল রোমেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর টিপু ও নাজমুল হোসাইন।

ছাত্রদল প্যানেলের কার্যক্রম শুরু : চাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মনোনীত প্যানেল কার্যক্রম শুরু করেছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে শুক্রবার আসরের নামাজের পর চবির কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, জিএস শাফায়েত হোসেন ও এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় শাখার সহসভাপতি জিয়াউদ্দিন বাসেত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, রাজু আহমেদ, চবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদ, চবি শাখার সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিনসহ অন্য নেতাকর্মীরা। দোয়া মাহফিলে জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। আজ ২১ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হবে, ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। ভোটগ্রহণ হবে ১২ অক্টোবর। এতে ভোটার ২৭ হাজার ৬৩৪ জন।