‘সম্প্রীতি যাত্রা’র তথ্য

দুর্গাপূজায় ২৯ জেলা ঝুঁকিপূর্ণ

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ‘সম্প্রীতি যাত্রা’ নামের একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্ম দেশের ২৯টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি জেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৪টি জেলাকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ তথ্য প্রকাশ করে।

লেখক, সাহিত্যিক, কবি, সমাজকর্মী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্যোগে গঠিত এই প্ল্যাটফর্ম জানায়, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দুর্গাপূজা ও অন্যান্য সময়ে পূজামণ্ডপ এবং সংখ্যালঘু বাড়িঘরে হামলার ঘটনার ওপর সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে তারা এই ঝুঁকির তালিকা প্রস্তুত করেছে।

ঢাকা, রংপুর, যশোর, চাঁদপুর ও নোয়াখালী এই পাঁচটি জেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সম্প্রীতি যাত্রা।

এ ছাড়া গাজীপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী ও নেত্রকোনাকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লেখক ও গবেষক মীর হুযাইফা বলেন, ‘গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে। ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পরও এ প্রবণতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।’তিনি বলেন, ‘ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষিক ও সাংস্কৃতিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। আগাম প্রস্তুতি, আইনের প্রয়োগ, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং স্থানীয় সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে মন্দির, মাজার, আখড়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব।’

সাংস্কৃতিক কর্মী বিথী ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক মাহা মির্জা এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার। এ ছাড়া চিন্তক ও শিল্পী অরূপ রাহী, লেখক ফেরদৌস আরা রুমীসহ উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে।