চোখে সংক্রমণ কেন হয়? জানুন লক্ষণ ও প্রতিকার

চোখের একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর সংক্রমণ হলো কনজাঙ্কটিভাইটিস। এটি মূলত চোখের কনজাঙ্কটিভা (চোখের সাদা অংশ ও চোখের পাতা আবৃত রাখে যে পাতলা পর্দা) সংক্রমিত হলে হয়। এই অসুখ ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া কিংবা রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে এসে হতে পারে। সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়ায়, তাই সচেতনতা ও প্রতিরোধ জরুরি।

কনজাঙ্কটিভাইটিস কেন হয়?

চোখের সংক্রমণের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করে:

ভাইরাসজনিত সংক্রমণ
সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এই ধরনের সংক্রমণ। অ্যাডিনোভাইরাস, হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস বা ভেরিসেলা-জোস্টার ভাইরাস-এর সংক্রমণে কনজাঙ্কটিভাইটিস হতে পারে। উপসর্গ হিসেবে থাকে: চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখে ব্যথা ও জ্বালা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া

ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ
হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়া, স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াস ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে চোখে হলুদ বা সবুজ পিচুটি জমাট বাঁধে। এর সাথে থাকে চোখে চুলকানি ও লালচে ভাব।

রাসায়নিক সংক্রমণ
ক্লোরিন, ডিটারজেন্ট, প্রসাধনী বা ধুলোবালির সংস্পর্শে এলেও কনজাঙ্কটিভাইটিস হতে পারে। এতে চোখে চুলকানি, জ্বালা ও পানি পড়া দেখা দেয়।

চোখের ভাইরাস সংক্রমণের অন্য রূপ হারপিস সিমপ্লেক্স কেরাটাইটিস। এই ভাইরাস কর্নিয়ায় সংক্রমণ ঘটায়।

লক্ষণ: চোখ ফুলে যাওয়া, ব্যথা, আলোয় চোখে যন্ত্রণা, ঝাপসা দেখা, 
চোখের সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে যা করবেন:
১। চোখে অস্বস্তি অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২। আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, রুমাল, বালিশ, প্রসাধনী ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
৩।

চোখে বা মুখে হাত দেওয়ার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।
৪। দিনে কয়েকবার সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া অভ্যাস করুন।
৫। বাইরে বের হলে স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখুন।
৬। চোখে ওষুধ দেওয়ার আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিন।
৭। কারো ব্যবহার করা কাজল, মাস্কারা, আইলাইনার ইত্যাদি একেবারেই ব্যবহার করবেন না।
৮। সংক্রমণের সময় মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি স্ক্রিন দেখা কমাতে চেষ্টা করুন।
কনজাঙ্কটিভাইটিস একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করলে জটিলতা বাড়তে পারে। দ্রুত চিকিৎসা, যথাযথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতন ব্যবহার আপনাকে এই চোখের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে। চোখের যত্ন নিন, চোখ সুস্থ রাখুন।

সূত্র : আনন্দবাজার