মাত্র কয়েক বছর আগে বিশ্বকে কাঁদানো করোনাকে যদি ‘প্রকৃতি’ কখনো অভিনন্দন জানায়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এর প্রধান কারণ, করোনাকালে প্রকৃতির ওপর চাপ অপেক্ষাকৃত অনেক কম ছিল। আবার অন্তত মনে হলো, ফেসবুকের জন্মদাতা জুকারবার্গ যদি করোনাকে অভিনন্দন জানান, তাও খুব একটা অন্যায় হবে বলে মনে হয় না। বিধির নিয়ম কারও পৌষমাস, কারও সর্বনাশ। করোনাঘাতে পৃথিবীর সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য যখন লাটে ওঠার উপক্রম, চিন্তায় চিন্তায় কারও চোখে কালির দাগ, কারও ঘুম হারাম, ঠিক তখন ফেসবুকের ব্যবসা রমরমা তো বটেই, এমনকি তুঙ্গে উঠে পা দোলায়। করোনাকালে সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে আমরা যখন গৃহবন্দিত্বকে বেছে নিয়েছিলাম, সে সময়টাতে ভার্চুয়াল বিশ্বের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ফেবুর বাজারমূল্য আকাশছোঁয়া ছিল। স্নেহভাজন ওসমান রহমান কানাডা থেকে জানিয়েছিলেন ‘এই বছর বিশ্বের অর্থনীতি অভূতপূর্ব মন্দাজনিত সংকোচনের প্রেক্ষাপটে, মুখবন্ধুত্বের (ফেবু) সম্প্রসারিত মূল্য ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সপ্তাহান্তে নিউ ইয়র্ক শেয়ারবাজারে তার বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছিল, ৭২৪ বিলিয়ন ডলার যেটা বাংলাদেশের সমুদয় অর্থনীতির (জিডিপি) প্রায় ২.৪ গুণ বেশি।’ তিনি আারও বলেন, ‘মাত্র দেড় দশক আগে, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরম কক্ষে কয়েকজন সহপাঠীর মধ্যে গোপন যোগাযোগের জন্য খেলাচ্ছলে প্রতিষ্ঠিত অপার্থিব এই প্রতিষ্ঠানটি এখন পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম এবং লাভজনক একটি ব্যবসা! প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার মার্ক জুকারবার্গের ব্যক্তিগত সম্পদ এই বছর মন্দাকালে মাত্র ২২ বিলিয়ন ডলার বেড়ে তিনি ইতিমধ্যে হাজার কোটিপতির দলভুক্ত হয়েছেন।’ এর পেছনে আমাদের অবদান অনস্বীকার্য। বদ্ধ একটা ঘরে সারাক্ষণ স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তান স্ব স্ব কায়দায় ফেবুতে মেতে আছি, এমন নিমগ্ন যেন কেউ কাউকে চেনেই না। হুঁ আর হাঁ শব্দে জীবন কাটে। খোশালাপ ও বন্ধুত্বের প্রতি মানুষের এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ‘বাবু জুকারবার্গ’ তিন মাসে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। আপনার মতো একজন বন্ধুবৎসল মানুষ গড়ে দৈনিক ৩০ মিনিটের বেশি মুখবন্ধুত্বে সময় ক্ষেপণ করেন। আপনার বন্ধু অন্বেষণের এই সময়ের মধ্যে, আপনি এবং আপানার সুহৃদের অগোচরে মুখবন্ধুত্ব ৪৩ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করেছে।’
বন্ধুবাৎসল্য, খুনসুটি, প্রেমান্ধ কিংবা আড্ডা আমাদের ব্যক্তিগত ও সাংসারিক জীবনে যতই অনর্থক আর সর্বনাশের কারণ হোক না, ‘এই অযাচারি গুণটি মার্ক জুকারবার্গ এবং তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবসা অর্থাৎ ফেসবুকের জন্য খুবই লাভজনক।’ আপাতত, জুকারবার্গ তথা ফেবুর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ না হয়ে একটু ভাবি, করোনাকালে কী অবস্থা হতো যদি ফেবু না থাকত? শুধু ফেবুর পৌষ মাস নয়, এক অর্থে পৌষমাষ আমাদের জন্যও একটা পজিটিভ সাম গেইম! দুই . কলেজ থেকে ফিরে টিনা, মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে নাকি সুরে বলল ‘এবার কিন্তু আমি একটা স্কার্ট বানাবই বানাব। টাকা দিতে হবে। প্লিজ মা।’ ‘স্কার্ট? বাঙালি মেয়ে হয়ে, তোমার শরীর আধা ঢেকে রাখবে আর আধা খোলা থাকবে, এ কেমন আবদার মৌসুমি?’, ছানাবড়া চোখে ভুরু নাচিয়ে মা বললেন। টিনা নাছোড়বান্দা। মার পিছু পিছু যায় আর যুক্তি পেশ করে, ‘আমার বান্ধবীরা অলরেডি বানিয়ে পরেও ফেলেছে। তাছাড়া, তুমি হয়তো জানো না যে, বিদেশে বাঙালি মেয়েরাও স্কার্ট পরে।’ ধমকের সুরে মা বললেন, ‘আমাকে তুমি জ্ঞান দিতে এসো না টিনা। তোমার স্কার্ট পরা হবে না তো হবে না। ব্যস। এই যে অধ্যাপক মহাশয়, শুনছো তোমার ধিঙ্গি মেয়ে কী বলছে?’ অধ্যাপক আরিফ বই থেকে মুখ তুলে বললেন, ‘হুম, শুনেছি। এর পরক্ষণেই ভাবছিলাম, এক সময়ের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার এস উইনস্টন চার্চিল স্কার্ট নিয়ে সুন্দর একটা কথা বলেছিলেন।’ গিন্নি একরাশ বিরক্তি নিয়ে বিড়বিড় করে বললেন, ‘এই শুরু হলো তোর বাবার গুরুগিরি!’
মেয়েরা এমনিতে বাপের ভক্ত হয়। তার ওপর টিনা দেখেছে, মা প্রায়শ অযৌক্তিকভাবে অধ্যাপক বাবাটির ওপর চড়াও হন। টিনা চিৎকার করে বলল, ‘মা তুমি একটু থামো প্লিজ। কী বলেছিলেন, বাবা?’ অধ্যাপক স্মিতহাস্যে বললেন, ‘বলেছেন, একটা ভালো বক্তৃতা হওয়া উচিত ঠিক স্কার্ট-এর মতন এমন লম্বা যাতে পুরো বিষয়টা কভার করে আবার এমন সংক্ষেপ যাতে আগ্রহ ও আফসোস নিয়ে শ্রোতা বাড়ি ফেরে। বড়ই শিক্ষণীয় ব্যাপার তাই না?’ তেজালো স্বরে গিন্নি বললেন, ‘রাখো তো তোমার শিক্ষা। আসল কথায় আসো মেয়ে স্কার্ট পেতে পারে কিনা।’ টিনা বলল, ‘তার আগে একটা কথা পরিষ্কার হওয়া দরকার। বাবা, তুমি খেয়াল করেছ নিশ্চয়ই, মা সবসময় সবার সঙ্গে খুব মেজাজ দেখায়। মনে হয় একটা জ্বলন্ত চুল্লি।’ ‘সারা দিন চুলার কাছে থাকে, মায়ের মধ্যে একটু তাপ তো থাকতেই পারে’, মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে অধ্যাপক আরিফ বললেন। টিনার চোখ বড় হলো। বাবার মধ্যে সে বিরাট পরিবর্তন লক্ষ করছে। বলল, ‘ইদানীং দেখছি মার তিরিক্ষি মেজাজের বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে, তুমি তোমার মুখ বন্ধ রাখো। আগে তো এমন ছিলে না, পান থেকে চুন খসলেই লংকাকাণ্ড বাধিয়ে দিতে। ব্যাপার কী, বাবা?’ অধ্যাপক বললেন, ‘দ্যাখ মা, প্রথমত আমার বয়স বাড়ছে, জোর কমছে। দ্বিতীয়ত, শেক্সপিয়ারের ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’-এর মতো মেজাজি রমণী বশীকরণ বটিকার সন্ধান আমি পেয়েছি।’ ‘কী সেটা?’ বিস্মিত হয়ে টিনার জিজ্ঞাসা। অধ্যাপক বললেন, ‘এক লোক বউয়ের মেজাজে অতিষ্ঠ হয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। ডাক্তার উপদেশ দিল, আপনার বউ অগ্নিমূর্তি হয়ে যখন আপনার সামনে আসবে, আপনি তখন এক গ্লাস পানি মুখে ঢুকিয়ে রাখবেন; যতক্ষণ না তিনি শান্ত হচ্ছেন কিংবা ফিরে যাচ্ছেন, ততক্ষণ কুলি করবেন না পানি খাবেনও না। গাল ফুলিয়ে পানি নাড়াচাড়া করবেন, ইংরেজিতে যাকে বলে swishing water in mouth. . টিনা অবাক হয়ে বলল, ‘বাহ, কী সুন্দর ওয়াটার থেরাপি! তারপর কী হলো বাবা?’ অধ্যাপক বললেন, ‘দিন কয়েক পর এক দৌড়ে ডাক্তারের কাছে গিয়ে টেবিলে দুহাত রেখে নিঃশ্বাস নিতে নিতে লোকটি বলল, আপনার পানি থেরাপি অভূতপূর্ব কাজ দিয়েছে ডাক্তার। আপনি মহান। ফণা তুলে সাপ যেমন মাথা নোয়ায়, আমার মুখে পানি থাকলে ওর মেজাজ তেমনি লেজ গুটায়। আচ্ছা ডাক্তার সাহেব, সত্যি করে বলুন তো ওই পানিতে এমন কী জাদু আছে যা মিরাকলটি ঘটাল?’ টিনা : ডাক্তার তখন কী বললেন? অধ্যাপক : ডাক্তার বললেন, পানি কিছুই করেনি মশাই। যা করেছে আপনার মুখটা। টিনা : কেমন? অধ্যাপক : ভদ্রলোকটির মুখ বন্ধ থাকে বলে, মেজাজি বউ কোনো সুবিধা করতে পারছে না। কারণ এক হাতে তালি বাজে না, এক পক্ষে যুদ্ধ হয় না। স্ত্রীর মেজাজ যখনই তুঙ্গে থাকে, তখন স্বামীর মুখ বন্ধ থাকার নাম ম্যাজিক, যা ঘটায় মিরাকল।
তিন. আমাদের দেশের একটা বচন এ রকম : পুরনো চাল ভাতে বাড়ে। ফ্রান্স তথা পশ্চিমা দেশে একটা বচন একটু ভিন্ন প্রকৃতির : পুরনো মদ স্বাদে বাড়ে; যত পুরনো মদ, তত বেশি নাকি তার স্বাদ, চাহিদা এবং দাম। ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’ প্রবাদটি সব জায়গায় খাটে। তবে বেশি প্রযোজ্য একমাত্র ওসব দেশে। প্রসঙ্গত, পুরনো চাল দিয়ে যে আমাদের দেশেও তৈরি হয় এক প্রকার চোলাই মদ, সে কথাটা জানান দেওয়া দরকার। ফ্রান্সের কথায় ফিরে আসি। ওখানে সব পুরনোরই দাম আছে। ধরা যাক, প্যারিসে অবস্থিত লুভর মিউজিয়ামের কথা। সব পুরনো কাহিনি শো-কেস বন্দি সেখানে। মিউজিয়াম মানে তো তাই হোক সে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির মোনালিসা অথবা রাজা লুইয়ের কীর্তিকাহিনি। আর ঠিক এগুলো দেখতেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাগলের মতো ছুটে আসে মানুষ, দৈনিক অন্তত হাজার হাজার। তাছাড়া আইফেল টাওয়ার, বার শতকের নটরডেম ক্যাথেড্রাল, ভার্সাই দুর্গ কিংবা অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা বা কীর্তির কথা নাই-বা বলা হলো। প্যারিস শহরে সিইনেই নদী (সিনে) যেমন আছে, লন্ডনে টেমস, বুদাপেস্টে দানিয়ুব এবং ঢাকায় বুড়িগঙ্গা। চলমান নদীর প্রভাবে জন্ম নেয়, এক আলাদা জগৎ। আর সে জন্য নদী-ঘেরা শহর অনন্য এক আকর্ষণ সৃষ্টি তো করেই, তার সঙ্গে অর্থনীতির জন্য নতুন একটা জানালা খুলে দেয়। প্রশ্ন জাগতে পারে, ‘ক্যাফে সংস্কৃতি’, ফ্যাশন, পারফিউম, শ্যাম্পেইন, ওয়াইন কিংবা বুটিকের ব্যাপার স্যাপার বাদ দিয়ে আমার নজর কেন প্যারিসের সিনে নদীতে নিবিষ্ট হলো? সত্যি কথা বলতে কি, এমনিতে ‘মেঘনা পাড়ের ছেলে’ আমি, তাই সবসময় নদীর প্রতি তীব্র একটা টান অনুভব করি। তার ওপর বিদেশের মাটিতে মনে গাঁথা মরমী গান, ‘ও নদীরে, একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে/বলো কোথায় তোমার দেশ/ তোমার নাইকি চলার শেষ...’। আরও ব্যাকুল করে বুকের কাছে টানে নদীকে। সিনে নদীতে জাহাজবিহারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাকা হয়ে গেল।
যথাসময়ে টার্মিনালে গিয়ে আমাদের চোখ যেন চড়ক গাছ। ২০-২৫টি কিংবা তারও বেশি, বিভিন্ন সাইজের জাহাজে করে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক প্যারিস প্রদক্ষিণ করছে। এটা নিজেই একটা দর্শনীয় দিক। নদীর দুকূলে তীর ঘেঁষা পাকা বেদিতে বসে যুবক-যুবতী গভীর চুম্বনে আবিষ্ট, কেউবা গিটার কিংবা ভায়োলিনে আপন মনে গান গাইছে। চলমান জাহাজে বসে, কখনো দেখা যায় আইফেল টাওয়ার, সম্প্রতি পুড়ে যাওয়া নটরডেম ক্যাথেড্রাল; আসা-যাওয়ায় থাকা বিভিন্ন জাহাজে যাত্রীদের কোলাহল, ছবি তোলা ইত্যাদি। পানি যে কত পরিষ্কার হতে পারে, সে বিষয়টা আমার কাছে পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গেল সিনে নদীর পানি দেখে। এমনিতে দিনের বেলায় জনপ্রতি ১৫-২০ ইউরো, তবে সন্ধ্যায় মোমবাতির আলোয় নৈশভোজের জন্য (Candlelight dinner) দিতে হবে ২০০ ইউরো। একজন প্রেমিক তার প্রেমিকার জন্য সমরখন্দ ও বোখারা রাজ্য বিলিয়ে দিতে পারলে, মনের মানুষটির সান্ধ্য সান্নিধ্যের জন্য ২০০ ইউরো খরচ করা তেমন কিছু না। সন্ধ্যার পর, তাই ঢল নামে যুগলবন্দিদের। চলন্ত জাহাজে বসে ডিনার, তার সঙ্গে শ্যাম্পেইন, ওয়াইন আর হাতবদ্ধ হয়ে দুকূলের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখায় স্বর্গীয় সুখ ভোগ করে। শুধু প্যারিস শহর দিয়ে প্রবাহিত অংশে, এ নদীর ওপর ৩২টি সেতু। প্রত্যেকটাতে দাঁড়িয়ে উপভোগ করার মতো উপাদান আছে। শুনলাম, এর একটাতে দম্পতি বা প্রেমিক-প্রেমিকা এসে রেলিংয়ে তালা লাগিয়ে চাবি ছুড়ে ছুড়ে ফেলে দেয় সিনে নদীতে। এটা নাকি বন্ধনের তালা; এই তালা খোলার চাবি কারও হাতে নেই। একবার তো ১০ লাখ তালা নিয়ে রেলিং ভেঙে পড়ার অবস্থা। তারপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই ব্রিজে ভালোবাসা চলবে তবে তালাবিহীন ভালোবাসা লাভ উইদাউট লক! একটা নদী যে কেবল মাছ আর পানির ব্যাপার নয়, বরং এই নদী সৃষ্টি করতে পারে ‘ডিসেন্ট জব’, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, মনোজাগতিক আনন্দ, নির্মল পরিবেশ ইত্যাদি এবং তা আমরা কেন ভুলে যাই? উত্তরটা খুব সোজা রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব। ভাবতে ভাবতে প্লেন নামে ঢাকায়, বুড়ি হয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গার তীরে। দস্যুদের দূষণ আর দখলে পড়ে যৌবনা নদী যেন এখন হাড় জিরজিরে, মৃত একটা সরীসৃপ। কাঙালিনী সুফিয়ার গানটাও মনে পড়ল, ‘পরানের বান্ধবরে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে...।’
লেখক: অর্থনৈতিক বিশ্লেষক, সাবেক উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
abdulbayes@yahoo.com