চিংড়ির হৃৎপিণ্ড মাথায়

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ এএম

চিংড়ি আসলে মাছ নয়। এক ধরনের জলজ অমেরুদণ্ডী প্রাণী। বাজারমূল্য এবং আকারের ওপর ভিত্তি করে চিংড়িকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়। গলদা, বাগদা, হরিণা ও কুঁচো। গলদা চিংড়িকে ‘মিঠাপানির রাজা’ বলা হয়। তাদের মাথা বড় এবং মাংস নরম ও সুস্বাদু। বাগদা চিংড়ির গায়ে কালো ও হলুদ/সাদা ডোরাকাটা দাগ থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা। হরিণা চিংড়ি মাঝারি ধরনের। সাধারণত এদের সমুদ্রের অগভীর পানি বা মোহনায় পাওয়া যায়। কুঁচো চিংড়ি আকারে খুব ছোট। খাল-বিলে তারা জন্মায়। স্বাদ, আকার এবং বাসস্থানের ওপর ভিত্তি করে, পৃথিবীতে হাজারো প্রজাতির চিংড়ি রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এদের হৃৎপি- মাথায় অবস্থিত। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যার ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি তাদের বক্ষ বা থোরাক্স অঞ্চলে থাকে, যা মাথার সঙ্গে যুক্ত এবং শক্ত খোলস দিয়ে ঢাকা। চিংড়ির শরীর মূলত দুটি অংশে বিভক্ত। একটি পেট বা লেজ, অন্যটি মাথা ও বক্ষ মিলে তৈরি অংশ। হৃৎপিণ্ডটি সমন্বিত অংশের পিঠের দিকে, চোখের পেছনে এবং ফুলকার সামনে। চিংড়ির শরীরে রক্ত চলাচলের জন্য কোনো শিরা নেই। চিংড়ির রক্তকে বলা হয় ‘হিমোলিম্ফ’। এই তরলই শরীরে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান  পৌঁছায়। শুধু হৃৎপিণ্ড নয়, পাকস্থলী এবং প্রধান স্নায়ুতন্ত্র মাথার এই অংশে সুরক্ষিত থাকে। জীবনে চিংড়ি কয়েকবার খোলস পরিবর্তন করে। পানির পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বিশ্বঅর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে চিংড়ি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত