ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি কানাডা যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়ার

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে একযোগে স্বীকৃতি দিয়েছে তিন বৈশ্বিক পরাশক্তি যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগে পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সুর দেখা গেছে। আর ইউরোপের আরেক দেশ পর্তুগাল আগেই জানিয়েছিল, গতকাল রবিবার থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের শান্তির আশার পুনর্জাগরণ করতে এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়ন করতে, যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি সেভেনের প্রথম সদস্য দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও কানাডা। আজ সোমবার নিউ ইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ একই উদ্যোগ নেবে। তবে এদের মধ্যে সবার আগে ফিলিস্তিনকে

স্বীকৃতির ঘোষণা দেয় ফ্রান্স। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক্সে পোস্ট করে বলেন, কানাডা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল, উভয় রাষ্ট্রের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়তে অংশীদারত্বের হাত বাড়াচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এক বিবৃতিতে আলবানিজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের মানুষ নিজেদের রাষ্ট্র গড়ার যে আকাক্সক্ষা ধারণ করে এসেছে, তা বৈধ এবং এই উদ্যোগের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া এর সঙ্গে একমত প্রকাশ করছে। তিনি আরও বলেন, আজকের এই স্বীকৃতি দুই-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তার একমাত্র পথ এটাই।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামাস হামলা চালালে এক হাজার ২০০ ব্যক্তি নিহত ও তাদের হাতে ২৫০ জন জিম্মি হন। সেদিনই ওই হামলার প্রতিশোধ নিতে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নির্বিচার ও বিধ্বংসী হামলা শুরু করে ইসরায়েল। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিন্দা কুড়িয়ে গত ২৩ মাসে ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ চললেও বারবার তা ভেস্তে যায়। যার ফলে পশ্চিমা দেশগুলো ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিকল্প চিন্তা থেকে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া একযোগে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অবিলম্বে পশ্চিম তীর দখলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি পশ্চিম তীরকে দখলে নেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করবেন। বেন গভির বলেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে হত্যাকারী নাকবা সন্ত্রাসীদের পুরস্কৃত করেছে। এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

পাশাপাশি ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। তাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নিউ ইয়র্কের এলিস স্টেফ্যানিক ও টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ আছেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫ জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়ে বলেছেন যে তারা যেন ফিলিস্তিনকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন। চিঠিটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকেও পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এতে বলা হয়, এই বেপরোয়া নীতির কারণে শান্তিপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। হামাসের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কাছে কূটনীতি নয় সহিংসতাকে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের উপায় হিসেবে তুলে ধরবে। পশ্চিমা দেশগুলোর এই উদ্যোগে ক্ষিপ্ত হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। ইতিমধ্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার নানা ফন্দিফিকির খুঁজে বেড়াতে শুরু করেছে দেশটি।