নাহিদকে জেরায় আইনজীবী

৫ আগস্ট পদত্যাগ করেননি শেখ হাসিনা

জুলাই-আগস্টে ব্যাপক হত্যাকা-, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া শেষ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল রবিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাকে জেরা শেষ করেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

জেরার সময় অ্যাডভোকেট আমির হোসেন সাক্ষী নাহিদের উদ্দেশে বলেন, শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট (গত বছরের) পদত্যাগ করেননি। জবাবে সাক্ষী নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি সত্য নয় যে, শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করেননি। গত বুধবার এ মামলায় ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন নাহিদ ইসলাম। এরপর বৃহস্পতিবার তার জবানবন্দি শেষ হয়। ওই দিন জবানবন্দিতে নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে তারা নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে নতুন সরকারের প্রধানের দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

গতকাল জেরায় আইনজীবী আমির হোসেন নাহিদ ইসলামের উদ্দেশে এ প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘দেশি-বিদেশি শক্তির ইন্ধন ছিল বিধায় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আপনারা অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।’

জবাবে সাক্ষী নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইহা সত্য নয়।’

আইনজীবীর জেরার জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটা সত্য নয় যে, ৩ আগস্ট সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচি তাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফলশ্রুতি।’ অ্যাডভোকেট আমির হোসেন সাক্ষীর উদ্দেশে বলেন, ‘শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করেননি। তিনি বাধ্য হয়ে ভারতে চলে যান।’

জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটা সত্য নয় যে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করেননি। এটাও সত্য নয় যে শেখ হাসিনা বাধ্য হয়ে ভারতে চলে যান নাই।’

আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনা উচিত : এদিকে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিচারের বিষয়টি তোলেন। দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনা উচিত, সেই সুযোগও আছে। আমরাও ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানাব।’ তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের কাছে এখন যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ এসেছে। শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা নিরঙ্কুশ ও ক্ষমতায় টিকে থাকতে জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে তাদেরকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জনগণ প্রতিরোধ করে তাকে উৎখাত করেছে। ফলে, এটা আওয়ামী লীগের সংঘটিত অপরাধ রাজনৈতিকভাবে। তাই দল হিসেবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।’