প্রবল শক্তিধর টাইফুন রাগাসা হংকংয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই সুপার টাইফুনের আঘাত সামাল দিতে ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ পরিপ্রেক্ষিতে হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে ৩৬ ঘণ্টার জন্য সব যাত্রীবাহী ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বার্তাসংস্থাটি জানায়, হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ৩৬ ঘণ্টা যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কান্তাস এয়ারওয়েজ। এশিয়ার অন্যতম প্রধান এই আর্থিক কেন্দ্রটি প্রবল শক্তিধর সুপার টাইফুনের আক্রমণ প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কান্তাস এয়ারওয়েজের এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে। এ সময় যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানান, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং টাইফুন মোকাবিলায় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে বিমানবন্দর বন্ধের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
হংকং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে সর্বনিম্ন সতর্কতা সংকেত জারি করা হবে। রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে এ সংকেত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হবে। মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়া দ্রুত খারাপ হতে পারে। বুধবার পুরো শহরে দমকা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাবে। সমুদ্র উপকূল ও উঁচু স্থানে হ্যারিকেনের মতো গতিতে বাতাস বয়ে যেতে পারে।
ইতোমধ্যে সোমবার সকাল থেকেই নগরবাসী প্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করতে শুরু করেছে। সুপারমার্কেটে দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। দুধের মতো পণ্য দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। কাঁচাবাজারে সবজির দাম স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেড়েছে বলে রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এর আগে শহরের প্রধান এয়ারলাইন ক্যাথে প্যাসিফিক রবিবার জানিয়েছিল, তারা ঝড়ের প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তখনও তাদের ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রভাবিত হতে পারে।
এদিকে, ফিলিপাইন সোমবার রাজধানী ম্যানিলা ও উত্তর লুজনসহ দেশের বড় একটি অংশে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটিতে তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের হুমকি তৈরি করেছে রাগাসা।