ঈশ্বরদীতে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা

দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চল খ্যাত ঈশ্বরদীর মাঠে মাঠে চলছে শীতকালীন সবজি চাষের জোর প্রস্তুতি। বীজতলায় বীজ বপন ও পরিচর্যার পাশাপাশি জমি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। তারা আশায় বুক বাঁধছেন- যেভাবে প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে তাতে কোন বিপর্যয় দেখা না দিলে স্বপ্ন পূরণের হাতছানি রয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে ঈশ্বরদীর সবজি প্রধান এলাকা ছলিমপুর, দাশুড়িয়া, সাহাপুর ও মূলাডুলি এলাকা ঘুরে দেখা যায় শীতকালীন সবজি চাষে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বীজতলায় উৎপাদন করেছেন রোপণ উপযোগী চারা। অনিষ্টকারী রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় চাষিরা বেগুন, মরিচ, ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোর কাঙ্ক্ষিত চারা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার সবজি চাষেও সরবরাহ যোগাবে। অপরদিকে আগাম জাতের কিছু কিছু সবজি ইতিমধ্যেই মাঠ সবুজ করে তুলেছে। মুলা, লাল শাক, বেগুনসহ আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ইতিমধ্যেই বাজারজাত করতে শুরু করেছেন চাষিরা। আগাম এ সবজি চাষের খরচ বেশি হওয়ায় বাজারে এখন চড়া দামে এসব সবজি বিক্রয় হচ্ছে। তবে চাষিরা আশা প্রকাশ করছেন, ভরা উৎপাদন মৌসুমে সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। 

ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম জানান, এবার ৩০ বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতিমধ্যেই বাড়ির আঙ্গিনায় ওলকপি, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও টমেটোর চারা উৎপাদন করা হয়েছে। আগামী দু’চার দিনের মধ্যেই এ সকল চারা জমিতে রোপণ করা হবে। বেশ কিছু জমিতে মূলা, লালশাক, বেগুন রোপণ করা হয়েছিল। যা এখন বিক্রির উপযোগী বলেও জানান তিনি।

বক্তারপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর সরদার জানান, শীতকালীন সবজি চাষ ঘিরে আগামী ৬ মাস চলবে তাদের ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টি এবং পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোর বিরাট অংশ বন্যা প্লাবিত হওয়ায় সেদিককার চাষিরা চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজি চাষে পিছিয়ে পড়েছে। যার ফলে ঈশ্বরদীর চাষিরা এ মৌসুমে অধিক মূল্যে সবজি বিক্রির সুযোগ পাবে। 

চরমিরকামরী গ্রামের কৃষক রকিবুল মালিথা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিদের প্রস্তুতিতে কোন বেগ পেতে হচ্ছে না। যা উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। 

কৃষি শ্রমিক মতিয়ার, আইয়ুব ও আলাউদ্দিন জানান, শীতকালীন সবজি চাষ ঘিরে তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধা পর্যন্ত চলছে তাদের জমি প্রস্তুতির কাজ। বীজতলা পরিচর্যা এবং আগাম মৌসুমের সবজির জমিতে তাদের আগাছা নিধনের কাজ চলছে। পুরো মৌসুম জুড়েই তাদের এ ব্যস্ততা থাকবে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ জানান, ঈশ্বরদীতে সবজি চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত বছর গুলোর মতো এবারও ঈশ্বরদীতে ব্যাপক হারে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষিরা কাঙ্ক্ষিত সবজি উৎপাদনে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত ভাবে মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের উন্নত চাষ পদ্ধতির ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়ে চলেছি। 

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষে মাঠে মাঠে জোর প্রস্তুতি চলছে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষনিক কৃষকদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে চলেছেন। তিনি বলেন, এবারে প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ মেট্রিক টনের অধিক হারে সবজি উৎপাদিত হবে। এখন পর্যন্ত বীজতলা এবং সবজি ক্ষেতে পোকা-মাকড় ও রোগ বালাই এর উপদ্রব লক্ষ্য করা যায়নি। কৃষি অফিস এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।