এনবিআরের সভায় অংশ নেয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনবিষয়ক সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে সভাটি হওয়ার কথা ছিল। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ‘আয়োজিতব্য মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়’ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সভায় আমন্ত্রণ পাওয়া বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা এবং তিনটি তামাকবিরোধী সংগঠনও এতে অংশগ্রহণে অপারগতা জানিয়েছে। মূলত এনবিআর অংশীজন হিসেবে তামাক কোম্পানির সঙ্গেও আলোচনার আয়োজন করে। বিষয়টি তামাক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এসব সংস্থা ওই সভায় অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই উদ্দেশ্যে তারা ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। প্রণীত এই খসড়ার ওপর আলোচনার জন্য মতবিনিময় সভাটির আয়োজন করে এনবিআর।

একই দিনে একই বিষয়ে আইন সংশোধনে ওপর মতামত দেওয়ার জন্য অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে বিভিন্ন তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরেকটি একটি সভার আয়োজন করেছিল এনবিআর। পরে এই সভার তারিখ পরিবর্তন করে ৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যানকে পাঠানো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বাংলাদেশে তামাক চাষ, তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন বহুজাতিক, আন্তর্জাতিক, দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রণ জানানো উদ্বেগজনক ও অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, স্টেকহোল্ডার বা অংশীজন মূলত তারা, যারা কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য অর্জনের সহযোগী। বাংলাদেশ সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যু কমানো, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং দেশকে তামাকমুক্ত করা। অন্যদিকে তামাক কোম্পানির লক্ষ্য হচ্ছে মুনাফা অর্জন। তারা কিশোর-তরুণদের তামাক সেবনে উৎসাহিত করে ব্যবসা বাড়াতে চায়। সুতরাং তামাক কোম্পানি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথা বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। তাদের স্টেকহোল্ডার বা অংশীজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘এফসিটিসি’ চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করেছে। তামাক কোম্পানির সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের যোগাযোগ এফসিটিসির পরিপন্থী। তাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকেও তামাক চাষ, তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সভা না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন মাহবুব আহমেদ বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি মূলত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত এবং তারাই আইনটি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে সরকারের অন্য একটি প্রতিষ্ঠান স্টেকহোল্ডার সভা আয়োজন করছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে মতামত প্রদানের জন্য; বিষয়টি কতটা যৌক্তিক বা আদৌ তাদের এখতিয়ারভুক্ত কি না, তা আমাদের ভেবে দেখতে হবে। তা ছাড়া তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন এবং বিপণনের সঙ্গে জড়িত কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টার স্টেকহোল্ডার হতে পারে না।’