পাবনায় ৫ বছরের এক শিক্ষার্থীকে মেরে মুখ ও পিঠে কালশিটে দাগ ফেলার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ক্লাস নিতে এসে ওই শিশুকে কিল ও থাপ্পড় দিয়ে আহত করেছেন কোচিং সেন্টারের শিক্ষক যোসেফ পি গোমেজ। শিশুটিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাবনা শহরের হলি চাইল্ড স্কুল ভবনের হাতেখড়ি কোচিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ নিয়ে সোমবার রাত থেকে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিশু শহরের দিলালপুর এলাকার জুবলী ট্যাংকপাড়ার আমিনুল হকের ছেলে সাদ ইবনে আমিন (৫)। সে শহরের নর্থ পয়েন্ট স্কুলের প্লে শ্রেণির ছাত্র। অন্যদিকে অভিযুক্ত যোসেফ পি গোমেজ (৫০) হাতেখড়ি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক। ওই কোচিং সেন্টার ও স্কুলের প্রধান তার স্ত্রী ইলোরা লেয়া।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে সাদক হাতেখড়ি কোচিং সেন্টারে পড়াতে নিয়ে যান মা মির্জা আফসানা। এ সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাদের ক্লাস নিচ্ছিলেন যোসেফ পি গোমেজ। ক্লাস নেওয়ার একপর্যায়ে ক্লাস রুমে ক্ষিপ্ত হয়ে সাদের বাম গালে বেশ কয়েকটি চড় দেন। এ সময় শিশুটি কান্না করতে করতে ভয়ে বেঞ্চ থেকে উঠে যেতে চাইলে শিক্ষক শিশুটির পিঠে কিল দেন। তখন শিশুটি চিৎকার দিলে ওয়েটিং রুম থেকে মা মির্জা আফসানা এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখনো মাঝেমধ্যে বমি করছে শিশুটি।
ভুক্তভোগী শিশুর বোন সুমাইয়া খন্দকার বলেন, হঠাৎ আমার ভাইয়ের কান্নার আওয়াজে মা ক্লাসে ঢুকে যান। তখন ওই শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেরেছি তো কী হয়েছে? নেন তাহলে আমাকেও মারেন।’
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক নেশাগ্রস্তু ছিলেন না জানিয়ে কোচিং সেন্টারের প্রধান ইলোরা লেয়া বলেন, ‘বাচ্চাটি লিখতে চাচ্ছিল না। এ কারণে ধৈর্যহারা হয়ে বাচ্চাটিকে একটি চড় দেন বলে ওই শিক্ষক জানিয়েছেন। এক বা একাধিক চড়ই হোক সেটি তার দেওয়া উচিত হয়নি। এটি অন্যায় হয়েছে। আমরা তার দায় মেনে নিয়ে বাচ্চার পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছি। ওই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে কোচিং থেকে বহিষ্কারও করেছি। ভব্যিষতে এ রকম ঘটনা যেন না ঘটে সেক্ষেত্রে আমরা আরও সতর্ক থাকব।’
পাবনা সদর থানার ওসি আব্দুস সালাম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছিল। তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ করে জানাতে চেয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের মতামত পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’