জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ৮০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

মঙ্গলবার তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে ইউনূসের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে। সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটি নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. ইউনূস আশ্বাস দেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোর একটি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং জানান, নিজের নির্বাচনী এলাকায় তিনি এই কমিউনিটির অবদান প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার স্মৃতিও উল্লেখ করেন।

পরে নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমা, যিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘Inclusive Finance for Development’-এর বিশেষ দূত, তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন ইউনূস। আলোচনায় গুরুত্ব পায় স্বাস্থ্যবীমা বিস্তৃত করা, বিশেষত গ্লোবাল সাউথ অঞ্চলে। তাঁরা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, স্বাস্থ্য ও জীবনবীমা, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় এবং পেনশন স্কিমসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী খাতের প্রসার নিয়ে কথা বলেন।

ড. ইউনূস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু হলে গ্রামীণ নারীরা সহজেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন, যা অগণিত প্রাণ বাঁচাতে সহায়ক হবে। বৈঠকে তিনি বৈশ্বিক ওষুধশিল্পকে পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অধিকাংশ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক ব্যবসা মডেলে রূপান্তরিত করতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘সামাজিক ব্যবসায় পরিচালিত ওষুধ কারখানা থেকে উৎপাদিত টিকা সবসময়ই সাশ্রয়ী থাকবে।’

এই সময় রানী ম্যাক্সিমার সঙ্গে ছিলেন নেদারল্যান্ডসের যুবরাজ্ঞী ক্যাথারিনা-আমালিয়া, প্রিন্সেস অব অরেঞ্জ। বৈঠকে ড. ইউনূস বাংলাদেশ সফরের জন্য রানী ম্যাক্সিমাকে আমন্ত্রণ জানান।

এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রস আধানোম গেব্রেইয়েসুসের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। আলোচনায় সাম্প্রতিক বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও পারস্পরিক অগ্রাধিকারের বিষয় উঠে আসে।

দিনের পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন—একটি ছিল ‘ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক, অন্যটি সামাজিক উদ্ভাবনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বিষয়ক।