কুমিল্লার মুরাদনগরে পাগলা কুকুরের কামড়ে আড়াই বছরের শিশুসহ একদিনে প্রায় ৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.সিরাজুল ইসলাম মানিক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার চাপিতলা, বাঙ্গরা পূর্ব, বাঙ্গরা পশ্চিম, রামচন্দ্রপুর উত্তর ও নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ধনপতিখোলা, দিঘীরপাড়, বিষ্ণুপুর, শ্রীরামপুর, পুষ্করনিরপাড়, পাকগাজীপুর, খামারগ্রাম, সিংহারিয়া, বাখরনগর ও রাজনগর গ্রামে বেশ কয়েকটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড়িয়েছে। এভাবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পুরো উপজেলায় অর্ধশতাধীক মানুষ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম মানিক বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুকুরে কামড়ে আহত ২০ জনকে তারা চিকিৎসা ও টিকা দিয়েছেন। পাশাপাশি গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার সকালে কুকুরটি আবারও বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের খামারগ্রাম গ্রামে প্রবেশ করে আরও ৫ জনকে কামড়ায়। পরে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে সেই কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।
মুরাদনগর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের কোনও দায়িত্ব প্রাণী সম্পদের নেই। শুধু মালিকানা প্রাণীই এ দপ্তরের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বলেন, একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরকে শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা হত্যা করেছে। শুনেছি পাগলা কুকুরটি নাকি খুবই ভয়ংকরভাবে আক্রমণ করেছে। কুকুরের কামড়ে আহতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।