কুমিল্লার মুরাদনগরে পাগলা কুকুরের কামড়ে এক দিনে প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর অন্তত ২০ জনকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার চাপিতলা, বাঙ্গরা পূর্ব, বাঙ্গরা পশ্চিম, রামচন্দ্রপুর উত্তর ও নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ধনপতিখোলা, দীঘিরপাড়, বিষ্ণুপুর, শ্রীরামপুর, পুস্করনিরপাড়, পাকগাজীপুর, খামারগ্রাম, সিংহারিয়া, বাখরনগর ও রাজনগর গ্রামে কয়েকটি পাগলা কুকুর সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড়েছে। এভাবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পুরো উপজেলায় প্রায় ৫০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়।
গুরুতর আহতরা হলো বিষ্ণুপুর গ্রামের আড়াই বছর বয়সী জান্নাত আক্তার, লিটন, ফয়সাল, জজ মিয়া, বেবি আক্তার, বেবি আক্তার-২ (৩৫), নুরজাহান, শ্রীরামপুর গ্রামের মাজেদা, হাবিবুল্লাহ, লুৎফা, সিফাত, পুস্করনিরপাড় গ্রামের নুসরাত, পাকগাজীপুর গ্রামের আবু সাঈদ, হামদু মিয়া, ধনপতিখোলা গ্রামের তাজুল ইসলাম, রাজনগর গ্রামের হুজাইফা, সিংহারিয়া গ্রামের আলম, বাখরনগর গ্রামের মঙ্গল মিয়া, দীঘিরপাড় গ্রামের হামিদা ও খামারগ্রাম গ্রামের বাহাদুর।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত ২০ জনকে তারা চিকিৎসা ও টিকা দিয়েছেন। পাশাপাশি গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার সকালে একটি কুকুর বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের খামারগ্রামে ঢুকে পাঁচজনকে কামড়ায়। পরে গ্রামবাসী একত্র হয়ে কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বলেন, কুকুরের কামড়ে আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।