সাত বছরে অগ্রগতি শূন্য পঞ্চগড়ে পর্যটন কেন্দ্রের

দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। প্রকল্পটি ওই বছরের জুলাইয়ে শুরু হয়ে ২০২১ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পটির স্থান নির্বাচন, ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা প্রণয়নসহ অনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতেই চলে গেছে সাত বছর। প্রকল্পটির কোনো ভৌত অগ্রগতি নেই।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩ নভেম্বর প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আওতায় হিমালয়ের পাদদেশের জেলাটিতে এক একর জমির ওপর একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত তিন বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য। ২০২২ সালের জুনে প্রথম দফায় প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। বর্ধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়। আর মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বর্ধিত মেয়াদেও প্রকল্পটির অগ্রগতি হয়নি। এরপর ব্যয় বাড়ানো ছাড়া প্রকল্পটি ফের সংশোধন করা হয় চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত আর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় জুন পর্যন্ত। এ সময়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ফলে আবারও প্রকল্পটির সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়। দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পটি সংশোধনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে পর্যটন করপোরেশন। এ সময়ে সরকারি পূর্ত কাজের রেট শিডিউল বদলে যাওয়ায় প্রকল্পটির ব্যয় আরেক দফা বাড়ছে।

১৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে নতুন করে প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হচ্ছে ৫৩ কোটি ২১ লাখ টাকা।

দফায় দফায় সময় ও মেয়াদ বাড়ানো হলেও প্রকল্পটির বাস্তবায়নে অগ্রগতি এখনো শূন্য। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিগত সরকারের সময় প্রকল্পটি যখন গ্রহণ করা হয়, তখন সরকারের একটি মহল পর্যটন কেন্দ্রটি তেঁতুলিয়া উপজেলায় নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। আবার আরেক পক্ষ পঞ্চগড় শহরের আশপাশে এটি স্থাপনে তৎপর ছিল। শুরু থেকেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত দোটানায় ছিল।

তেঁতুলিয়ায় উপযুক্ত জায়গা না পাওয়ায় ফের এটিকে পঞ্চগড় শহরের কাছাকাছি কোনো স্থানে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ততদিনে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। আবার পর্যটন করপোরেশনের প্রকল্প হলেও এটির বাস্তবায়ন করার কথা গণপূর্ত অধিদপ্তরের। কাজেই পর্যটন করপোরেশন যে নকশা প্রণয়ন করেছিল, সেটিতে গণপূর্তের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পর্যটন করপোরেশন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নকশা প্রণয়ন করায় সেটিকে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানায় গণপূর্ত। পরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নকশা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এভাবে দড়ি টানাটানির কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। গত সাত বছরে প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১০ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি শূন্য। দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন পেলেও গোড়া থেকে শুরু করতে হবে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের কাজ।

পর্যটন করপোরেশনের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক মো. মাজেদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পর্যটন কেন্দ্রের স্থান নির্দিষ্ট না হওয়া ও নকশা প্রণয়নে জটিলতা প্রভৃতি কারণে প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। নতুন করে প্রকল্প সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগির প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে।’