জার্মানির বুন্দেসলিগায় আবারও ইতিহাস গড়লেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। শুক্রবার রাতে ভার্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুটি গোল করে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলা ক্লাবগুলোর মধ্যে চলতি শতাব্দীতে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ১০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি।
মাত্র ১০৪ ম্যাচে ১০০ গোলের এই রেকর্ড গড়ার পথে কেইন পেছনে ফেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ডকে। ২০১১ সালে রোনালদো এবং ২০২৪ সালে হালান্ড একই কীর্তি গড়েছিলেন ১০৫ ম্যাচে।
শুক্রবারের ম্যাচে কেইন প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৬৫ মিনিটে কাছ থেকে শট নিয়ে শততম গোল পূর্ণ করেন। ম্যাচটি বায়ার্ন মিউনিখ ৪-০ ব্যবধানে জিতে শীর্ষস্থান ধরে রাখে। সম্প্রতি হফেনহাইমের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে কেইন আরও দুটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন।
মাত্র ৬৭ ম্যাচে ৭০ গোল করে তিনি বুন্দেসলিগা ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে এ মাইলফলক ছোঁয়া খেলোয়াড়। ৫০ গোল করতে তিনি খেলেছেন মাত্র ৪৩ ম্যাচ, যা সবচেয়ে কম। এছাড়া তিনি বুন্দেসলিগায় প্রথম ১৮টি পেনাল্টিতেই গোল করার রেকর্ড গড়েছেন এবং ১৮টি টানা পেনাল্টিতে গোল করেছেন।
প্রথম দুটি মৌসুমেই তিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম দুই মৌসুমে ২৫ বা তার বেশি গোল করেছেন। চলতি মৌসুমেও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন কেইন। সব প্রতিযোগিতায় ৮ ম্যাচে ১৫ গোল, যার মধ্যে দুটি হ্যাটট্রিকও রয়েছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪২ গোল করে কেইন ইতোমধ্যেই ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তিনি বুন্দেসলিগায় খেলেছেন এমন ২০টি দলকেই গোল দিয়ে শাস্তি দিয়েছেন। ২০২৩ সালে টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে বায়ার্নে যোগ দেন কেইন। প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের হয়ে ৪৩৫ ম্যাচে ২৮০ গোল করেছিলেন তিনি।
প্রিমিয়ার লিগে ফেরার গুঞ্জন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে কেইন বলেন, ‘না, আপাতত তা ভাবছি না। এখানে আমি খুব খুশি। আমার চুক্তিতে দুই বছর বাকি আছে। দলের সঙ্গে, কোচের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি এবং আশা করি এভাবেই সফলতা ধরে রাখতে পারব।’
এদিকে জার্মান ফুটবল বিশেষজ্ঞ রাফায়েল হনিগস্টেইন বলেন, ‘তারা মনে করে কেইন তাদের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার — রবার্ট লেভানদোভস্কির চেয়েও এগিয়ে। সে শুধু গোল করাই নয়, দলকে রক্ষা করতেও অবদান রাখছে। তার নিঃস্বার্থ খেলা ও আত্মনিবেদন জার্মানদের মুগ্ধ করেছে।’