বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবার ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মুখোমুখি কেবল দুই দেশের লড়াই নয়; এই ম্যাচে ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে দুই গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এবং হ্যারি কেইনের দ্বৈরথের দিকে। কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে দুই দলের কৌশল যে মূলত এই দুই স্ট্রাইকারকে ঘিরেই আবর্তিত হবে, তা আর গোপন রাখতে চাননি নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন।
মায়ামিতে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সোলবাকেন সরাসরি স্বীকার করলেন, ‘নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ডের লড়াই হলেও, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ইংল্যান্ডের প্রধান ম্যাচ-উইনার হ্যারি কেইন এবং আমাদের শক্তির জায়গা হালান্ড।’ এই বিশ্বকাপে হালান্ড যেন এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছেন; মাত্র চার ম্যাচেই তার গোল সংখ্যা সাত। নরওয়েকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরিয়েই ক্ষান্ত হননি, শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ের মূল কারিগরও তিনি। অন্যদিকে, কেইন তার বিশ্বস্ততা প্রমাণ করে চলেছেন ইংল্যান্ডের জার্সিতে। চলতি বিশ্বকাপে মোট ছয় গোল নিয়ে তিনি হালান্ডের ঠিক পেছনেই রয়েছেন। ম্যাচটির ভাগ্য তাই অনেকটা এই দুই তারকার ব্যক্তিগত গোলক্ষুধার ওপরই নির্ভর করছে।
দীর্ঘ ২৬ বছর পর কোনো বড় টুর্নামেন্টে নরওয়ের অংশগ্রহণ ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। এ নিয়ে সোলবাকেন বলেন, ‘নরওয়েজিয়ান ফুটবলের জন্য প্রতিটি নকআউট ম্যাচই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আমরা সেই পরীক্ষার মুখোমুখি।’ এছাড়া নরয়েজীয় এই কোচ মনে করেন, ইংল্যান্ডের ওপর প্রত্যাশার চাপ বেশি থাকলেও, তার দল বেশ স্বস্তিতে এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছে। ১১ বনাম ১১ জনের লড়াইয়ে মাঠে নামার পর মাঠের বাইরের চাপ খুব একটা প্রভাব ফেলবে না বলেই তার বিশ্বাস।
তবে এই ম্যাচের ফলাফলে মাঠের কৌশলের বাইরেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে মায়ামির তীব্র দাবদাহ। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার ম্যাচটিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এই প্রতিকূলতা কাটাতে নরওয়ে কোচ কঠোর অনুশীলনের বদলে গুরুত্ব দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের সতেজতার ওপর। সোলবাকেন জানান, গত তিন দিন তারা মায়ামিতে খুবই হালকা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, দুই দলের জন্যই কন্ডিশন সমান চ্যালেঞ্জিং হবে।
ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় এবং হালান্ডের গোল করার ক্ষিপ্রতায় নরওয়ে এখন ফুটবল বিশ্বের নতুন বিস্ময়। দর্শকদের মধ্যে তাদের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন আইকনিক রূপ পেয়েছে। সোলবাকেন আশাবাদী, হালান্ডের মতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকার এবং দলের এই লড়াকু মানসিকতা নরওয়ের ফুটবলের নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করবে। তবে আপাতত তাদের লক্ষ্য কেবলই শনিবারের সেই জমজমাট লড়াই, যেখানে কেইন আর হালান্ডের গোলমেশিনের লড়াইয়েই নির্ধারিত হবে কার হাতে উঠবে শেষ চারের টিকিট।