২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার অভিযোগে দেশটির বিরুদ্ধে ক্রীড়াবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি উঠলেও ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ সফল হতে দেবে না। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের মোট ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে।
গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলের জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার যে কোনো প্রচেষ্টা রুখে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন সম্প্রতি গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করার পর থেকেই ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফার ভেতরে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের দাবি জোরালো হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, উয়েফার ২০ সদস্যের নির্বাহী কমিটির বেশিরভাগ সদস্য নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, রাশিয়ার ক্ষেত্রে যেমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও তেমন হওয়া উচিত।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর উয়েফা ও ফিফা উভয়ের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল রাশিয়া। কিন্তু একাধিক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ সত্ত্বেও এবং সর্বশেষ জাতিসংঘের গণহত্যার ঘোষণা পাওয়ার পরও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশ নিতে পারছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ‘বর্বরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া ও ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া উচিত।’
রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে উয়েফা কর্মকর্তারা ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে জরুরি ভোট আয়োজন করতে পারেন। তবে উয়েফা ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দিতে পারলেও, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতা তাদের নেই। এটি ফিফার এখতিয়ারভুক্ত। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশে বিশ্বকাপ আয়োজিত হওয়ায় ইসরায়েল নিষিদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজৌব নরওয়ের টিভি২-কে বলেন, ‘ইসরায়েল ফিফার নীতিমালা ও মূল্যবোধ ভঙ্গ করেছে। তাই আমি বিশ্বাস করি, ইসরায়েলকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করা উচিত। নিষেধাজ্ঞা আসা উচিত উয়েফা ও ফিফা—দুই দিক থেকেই।’ এদিকে ইসরায়েল সরকার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।