দরকষাকষি ছাড়াই স্টারলিংক!

স্টারলিংকের সেবার মান ও ইন্টারনেটের গতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও দাম দিয়ে চরম অসন্তোষ গ্রাহকদের। এ ছাড়া ছোটখাটো কারিগরি সমস্যার পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেটের। তবে বাংলাদেশে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে স্টারলিংক সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেড সারা দেশে চারটি স্থানীয় গেটওয়ে স্থাপন করেছে এরই মধ্যে।

গত ২০ মে থেকে বাংলাদেশে স্যাটেলাইটনির্ভর ইন্টারনেট সংযোগের জন্য অর্ডার গ্রহণ শুরু করে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবার আশায় দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি হওয়ায় শহুরে গ্রাহকদের কাছে স্টারলিংকের তুলনামূলক সাড়া কম।

বাংলাদেশের ইন্টারনেট অবকাঠামোর সঙ্গে স্টারলিংক তার স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সংযোগ করার জন্য গাজীপুরের হাইটেক পার্কে দুটি এবং রাজশাহী ও যশোরে একটি করে চারটি স্থানীয় গেটওয়ে স্থাপন করেছে। যার মাধ্যমে দ্রুতগতির সংযোগ, কম ল্যাটেন্সি, বিধিনিষেধ মানা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ২৯ মার্চ স্টারলিংককে বিনিয়োগের নিবন্ধন দেয় বিডা। এক মাস পর ২৯ এপ্রিল বিটিআরসি ১০ বছরের জন্য তাদের লাইসেন্স দেয়। পরে ৮ মে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়, যার মেয়াদ গত ৭ আগস্ট শেষ হয়। লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, সেবা শুরু করার আগে কোম্পানিকে অন্তত একটি গেটওয়ে সিস্টেম বাংলাদেশে স্থাপন করতে হবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান ও শ্রীলঙ্কায় স্টারলিংক আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। সামগ্রিক বিষয়ে মন্তব্যের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও স্টারলিংকের মালিক ধনকুবের ইলন মাস্কের ফোনালাপ হয়। বাংলাদেশে স্টারলিংকের কার্যক্রম দ্রুত শুরুর আহ্বান জানানো হয় অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে। ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক করতেই ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ইলন মাস্ককে ব্যবহার করার গুঞ্জন থাকলেও বিষয়টি তা নয় বলে জানিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুবিধার জন্যই স্টারলিংককে অনুমোদন দেওয়া হয়। এখানে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক কোনো কূটকৌশল নেই।

দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেটের দাবি দীর্ঘদিনের। ইন্টারনেটের গতি ও সেবার মান নিয়ে ব্যবসায়ী এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারাও আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত এটি বিনিয়োগ বোর্ডে গড়ায়। পরে বোর্ডের তাগাদা থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত স্টারলিংকের গ্রাহকসংখ্যা ঠিক কতজন, তা জানা সম্ভব না হলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে এ সংখ্যা প্রায় এক হাজারের মতো। এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্টারলিংকের কিট আমদানিতে এইচএস কোড-সংক্রান্ত একটা জটিলতা ছিল। সেটি আমরা সমাধান করে দিয়েছি। আশা করি, সরাসরি কিট আনতে যে সমস্যা ছিল, তা এখন আর হবে না।’

দাম কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি বেসরকারি খাত। সেজন্য আমরা স্টারলিংকে একটা “প্রাইস প্ল্যান” দিয়েছি, যেটি অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। আর এর বাইরে আমরা বাণিজ্যিকভাবে দাম নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো দর-কষাকষি করছি না। তবে আমাদের দেশের দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কীভাবে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। যেমন : পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আমরা আলাদাভাবে আলোচনা করছি।’

স্টারলিংক তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি কোম্পানির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) সঙ্গে চুক্তি সই করেছে স্টারলিংক, যার ফলে তারা তাদের অনুমোদিত রিসেলার। এ ছাড়া কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও স্টারলিংকের কিট আমদানি করে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করছে।

কারা ব্যবহার করছেন স্টারলিংক : উচ্চগতির জন্য স্টারলিংক জনপ্রিয়। বলা হয়, প্রত্যন্ত বা দুর্গম অঞ্চল, যেখানে প্রথাগত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছাতে পারে না, সেখানে স্টারলিংক সহজেই সেবা দিতে পারে।

মূলত গ্রামীণ এবং প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যমান ইন্টারনেট সেবার গতি, স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকসেবায় অসন্তুষ্ট হয়ে স্টারলিংক অর্ডার করেছেন অনেকেই। কিন্তু ঢাকা ও অন্যান্য শহরে স্টারলিংকের অর্ডার তুলনামূলক অনেক কম। কারণ তুলনামূলক অনেক কম দামে তারা তাদের কাজ চলার জন্য যে ধরনের ইন্টারনেট সেবা দরকার, তা পাচ্ছেন। তাই আপাতত বাড়তি ব্যয় করে নতুন করে স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট সেবা খুব কম মানুষই নিচ্ছেন।

অবশ্য কিছু ব্যতিক্রমও আছে। যাদের সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সেবা দরকার, বিশেষ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ফ্রিল্যান্সারদের কেউ কেউ বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সংযোগ নিচ্ছেন। যাতে প্রচলিত ইন্টারনেট সেবা কোনো কারণে ব্যাহত হলে তাৎক্ষণিক এই সেবা নিতে পারেন। এ ছাড়া অনেক দ্রুত গতির ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্যও কেউ কেউ নিচ্ছেন স্টারলিংকের সংযোগ। অনেক ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও রিমোট ওয়ার্কাররা স্টারলিংককে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখছেন।

সম্ভাব্য গ্রাহকদের তালিকায় রয়েছে ব্যাংক, হাসপাতাল, ফ্যাক্টরি, ডেটা সেন্টার, অফশোর ইনস্টলেশন এবং অ্যাভিয়েশন, মেরিটাইম, এনার্জি, কনস্ট্রাকশন ও মিডিয়ার মতো ক্ষেত্রগুলো।

ব্যবহারকারী ও বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : স্টারলিংকের একজন গ্রাহক বিডিজবস.কম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রযুক্তিবিদ ফাহিম মাশরুর। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরাসরি স্টারলিংকের ওয়েবসাইটে অর্ডার করার তিন সপ্তাহের মধ্যেই কিট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাতে পেয়েছি। বাসায় ব্যবহারের পাশাপাশি অফিসেও বিকল্প ইন্টারনেটের ব্যাকআপ হিসেবেও এটি রাখছি। যাতে কোনো কারণে প্রচলিত ব্রডব্যান্ড সংযোগে ব্যাঘাত ঘটলে তাৎক্ষণিক এটি ব্যবহার করতে পারি। এর গতি ও সেবার মান খুবই ভালো।’

তিনি আরও বলেন, ‘দাম অনেক বেশি হওয়ায় শহরাঞ্চলে ব্রডব্যান্ড বাদ দিয়ে খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ এটা নেবেন না, সেটাই স্বাভাবিক। তবে ঢাকার বাইরে এটি নিয়ে ব্যবসা করার জন্য দিনে দিনে কদর বাড়বে।’

সাইবার নিরাপত্তা, ইন্টারনেট গভর্ন্যান্সসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন সুমন আহমেদ সাবির। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি সরাসরি গ্রাহক না। তবে কয়েকবার স্টারলিংক ব্যবহার করে দেখেছি এর গতি ও সেবার মান খুবই ভালো। বিশেষ করে বিমানে ভ্রমণের সময় কয়েক হাজার ফুট উঁচুতেও স্টারলিংকের গতি অসাধারণ।’

তার মতে, মূলত ঢাকার বাইরে দুর্গম এলাকা এবং গ্রামাঞ্চল কিংবা ছোট শহরগুলোয় স্টারলিংকের ব্যবহার বেশি হবে। এ ছাড়া বিকল্প ইন্টারনেট হিসেবেও বিশেষ করে মিডিয়া এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোয় সারা দেশে এর কদর রয়েছে।

আরমান আরিফ নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কিছুদিন আগে চর কুকরি-মুকরিতে গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিল স্টারলিংক মিনি কিট আর প্যাকেজ ছিল রোম আনলিমিটেড। ওখানে মোবাইল ইন্টারনেট ভালো কাজ করছিল না। স্টারলিংক স্পিড বেশ ভালো পাচ্ছিলাম প্রায় ২৫০ এমবিপিএস পর্যন্ত।’

মো. সানি নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘গত জুন থেকে স্টারলিংক ব্যবহার করছি। প্রথম দিন থেকেই তাদের সেবা আর ব্যবহার অসাধারণ লেগেছে। একদম “ফ্রেন্ডলি”, “হেল্পফুল” এবং সর্বদা “রেডি টু সাপোর্ট”। ইন্টারনেট স্পিড কখনোই ড্রপ করেনি। ঝড়-বৃষ্টি, প্রচ- রোদে কোনো অবস্থাতেই নেট বন্ধ হয়নি।’

গোপালগঞ্জের তরুণ মাছ ব্যবসায়ী ওয়াসিমুল করিম নিলয়ও ব্যবহার করছেন স্টারলিংক। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘খুলনা গিয়ে স্টারলিংক কিট কিনে নিয়ে বাসায় স্থাপন করেছি। আমাদের পাঁচটি পরিবার গ্রামের শেষদিকে বসবাস করি। তাই সেখানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ নেই। তাই ওই পাঁচটি পরিবার মিলে স্টারলিংক সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করছি। ব্রডব্যান্ডের চেয়ে সেবার মান অনেক ভালো।’

যেভাবে মিলবে সংযোগ : সাধারণত, স্টারলিংক বিশ্ব জুড়ে ব্যক্তিগত গ্রাহকদের কাছে সরাসরি তাদের ওয়েবসাইট থেকে বিক্রি করে। তবে বাংলাদেশে বিএসসিএল এবং অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও এই সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সরাসরি স্টারলিংকের কিট আমদানি করতে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে গিয়ে সেখানে থাকা প্যাকেজগুলোর মধ্যে একটি বাছাই করে ‘অর্ডার নাউ’ অপশনে নিজের স্থান নির্বাচন করতে হবে। এরপর চেকআউট অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও টাকা পরিশোধের পর ‘প্লেস অর্ডার’-এ ক্লিক করতে হবে।

সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে পুরো সেট গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে। স্টারলিংক বলছে, গ্রাহক খুব সহজে নিজেই এটি সেট করতে পারবেন।

স্টারলিংকের অফিশিয়াল গাইড দেখে এটি ইনস্টল করার সুযোগ রয়েছে। বসানোর পর তার টানিয়ে ঘরে রাউটার সংযুক্ত করে বেসিক এসএসআইডি বা ওয়াই-ফাই নাম আর পাসওয়ার্ড সেট করলেই চালু হয়ে যাবে ইন্টারনেট। ডিশ যদি সোজা না থাকে, স্টারলিংক অ্যাপে নোটিফিকেশন দেয় কোনদিকে সরাতে হবে। ইনস্টলেশনের জন্য স্টারলিংক অ্যাপ নামাতে হবে। অ্যাপ থেকেই সব কাজ করা যায়। ইন্টারনেট চালু করার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম মাসের বিল কেটে নেবে কার্ড থেকে।

প্রথমবার চালুর পর ছয়-সাত ঘণ্টা লাগে স্টারলিংকের ক্যালিব্রেশনের জন্য। রিসিভার বসানোর সময় বেশ বড় খোলা জায়গা রাখতে হয়, নতুবা ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল থাকে।

ব্যয় এবং সরঞ্জাম : বিভিন্ন প্যাকেজের মধ্যে স্টারলিংক আবাসিকের মাসিক খরচ ৬ হাজার টাকা এবং আবাসিক লাইটের খরচ ৪ হাজার ২০০ টাকা। আর রোমিং ৫০ জিবি প্যাকেজের জন্য ৬ হাজার টাকা এবং আনলিমিটেড (সীমাহীন) ডেটার জন্য মাসে ১২ হাজার টাকা খরচ হবে।

সঙ্গে ৪৭ হাজার টাকার সরঞ্জাম কিনতে হবে। সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে রিসিভার বা অ্যানটেনা, কিকস্ট্যান্ড, রাউটার, তার ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা বা পাওয়ার সাপ্লাই।

অন্যদিকে দেশে বিদ্যমান ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য ৪০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস সংযোগ নেওয়া যায়, যা দিয়ে মোটামুটি কাজ চলে। ভাগাভাগি করে ব্যবহার করলে ৪০ এমবিপিএস ইন্টারনেটের মাসিক খরচ পড়ে ৪ হাজার টাকার মতো।

অন্যদিকে মাঝারি আকারের অফিসে ১০০ এমবিপিএস ডেটিকেটেড ইন্টারনেট সংযোগের মাসিক ব্যয় হয় ১৫ হাজার টাকা। এ ধরনের সংযোগ নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজও করা যায়।

এসব বিবেচনায় স্টারলিংকের ইন্টারনেটের দাম অনেক বেশি। সঙ্গে দিতে হয় এককালীন প্রায় ৫০ হাজার টাকা। তবে এর গতিও বেশি। স্থানভেদে স্টারলিংকের গড় গতি ২৫০ থেকে ৩০০ এমবিপিএস (মেগাবিট পার সেকেন্ড)।

অবশ্য স্টারলিংকের একটি সংযোগ থেকে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ মিটার পর্যন্ত ইন্টারনেট পাওয়া যাবে। গ্রামে এটি ৫০ থেকে ৬০ মিটার পর্যন্ত হবে। এক ব্যক্তি কিনে তা ভাগাভাগি করার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দাম কমে আসবে।

কিছু সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা : দেশে প্রচলিত ইন্টারনেট ব্যবস্থায় আপলোড ও ডাইনলোড গতি একই থাকলেও স্টারলিংকের ক্ষেত্রে আপলোড গতি অনেক কম। এ ছাড়া মেঘলা আকাশ, বজ্রপাত কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় স্টারলিংকের স্বাভাবিক গতি বা সেবা ব্যাহত হতে পারে।

আবার এর অ্যানটেনা সাধারণত ৯০ ডিগ্রি বা কাছাকাছি কোণে কিছুটা উন্মুক্ত স্থানে বসাতে হয়। এর মধ্যে কোনো গাছপালা কিংবা বাধা থাকলে গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর পাশাপাশি স্টারলিংকের রাউটার গরম হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক।

ফেসবুকে স্টারলিংক বাংলাদেশ ইউজার কমিউনিটি নামে একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে, যেখানে যুক্ত আছেন প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার মানুষ। এর বাইরে আরও একাধিক গ্রুপ খোলা হয়েছে।

ওই গ্রুপে আরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, স্টারলিংক রাউটার অনেক গরম হয়ে যাচ্ছে। তাতে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। এর কোনো সমাধান আছে?

আরেকজন লিখেছেন, আপলোড গতি এত কম দেখেই জঘন্য লাগে। এর থেকে ১ হাজার টাকার আইএসপি লাইন নিলে ভালো। ডাউনলোড ও আপলোড দুটোর গতিই ১০০ এমবিপিএসের বেশি থাকবে।

মো. শরিফুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবহারকারী গত ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ করেন, ২৯ মে তিনি সরাসরি স্টারলিংকের কিট অর্ডার করেছিলেন। বেশ কয়েক দিন অপেক্ষার পরও তা না পাওয়ায় ১৭ জুলাই অর্ডারটি বাতিল করেন। এরপর স্টারলিংক থেকে বলা হয়, ১৫ দিনের মধ্যেই তার টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে। এক মাস পর তারা একটা রিফান্ড ভাউচার দেয় এবং বলা হয় ব্যাংকে টাকা চলে গেছে। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে তিনি দেখতে পান তখনো টাকা আসেনি। এমন আরও নানা বিষয়ে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকদের কেউ কেউ।