পাল্টাপাল্টি পোস্ট: আসিফ মাহমুদ- আমিই ঠিক ছিলাম, সাকিব- ফিরবো হয়তো কোনদিন

পাল্টাপাল্টি পোস্ট- আসিফ মাহমুদ বললেন 'আমিই ঠিক ছিলাম', সাকিব বললেন 'ফিরবো হয়তো কোনদিন'
ভারত-পাকিস্তান এশিয়া কাপ ফাইনালের উত্তেজনার মধ্যে রাতে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও দেশান্তরী সাকিব আল হাসানের পাল্টাপাল্টি পোস্টে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে। 

রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফেসবুকে এক পোস্ট দেন সাকিব আল হাসান। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান তিনি পোস্টে। তার ওই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 

কিছুক্ষণ পর ক্রীড়া উপদেষ্টা তার এক ফেসবুক একাউন্টে লেখেন, ‘একজনকে পুনর্বাসন না করায় সহস্র গালি দিয়েছেন আপনারা আমাকে। কিন্তু আমি সঠিক ছিলাম। এখানেই আলোচনা শেষ।'

প্রশ্ন উঠে কাকে পুনর্বাসন না করার কথা বললেন আসিফ মাহমুদ।

এর কিছুক্ষণ পর সাকিব আরেক পোস্টে সাকিব লেখেন, 'যাক শেষমেষ কেউ একজন স্বীকার করে নিলেন যে তার  জন্য আমার আর বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দেওয়া হলো না, বাংলাদেশের জন্য খেলতে পারলাম না!
ফিরবো হয়তো কোন দিন আপন মাতৃভূমিতে, ভালোবাসি বাংলাদেশ।'

এর আগে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের আগে ধারণ করা এক সাক্ষাৎকার প্রচার করে একটি বেসরকারি টেলিভিশন। সেখানে তিনি বলেন, 'মাশরাফি মোর্ত্তজা-সাকিব আল হাসানরা দেশের ক্রিকেটকে আরো অনেক কিছু দিতে পারতেন। কিন্তু শুধ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার কারণে কি পরিস্থিতিতে তাদের যেতে হয়েছে।'

হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোয় তোপের মুখে পড়েছেন সাকিব। নেটিজেনরা তাকে ‘আওয়ামী দোসর’ ও ‘দালাল’ বলে অ্যাখ্যা দেন। কমেন্টে কেউ কেউ বলছেন, গণহত্যাকারী হাসিনার জন্য এত দয়া কেন?

গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়টায় সাকিব ছিলেন কানাডায়। এরপর আর দেশে ফিরতে পারেননি নৌকা প্রতীকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়া সাকিব। আরও অনেকের মতো সাকিবের নামেও হত্যা মামলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে শেয়ার কেলেঙ্কারির অভিযোগ আছে, আছে দুদকের মামলা।
গণ–অভ্যুত্থানের পরপর পাকিস্তান ও ভারতে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজে খেললেও দেশে ফিরতে না পারায় সাকিব এখন জাতীয় দলের বাইরে। গত বছরের অক্টোবরে দেশে এসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে চাইলে এ নিয়ে ঘটে যায় তুলকালাম কাণ্ড। দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য দুবাই হয়ে দেশের পথে থাকা সাকিব ঢাকায় সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকেত না পেয়ে মাঝপথ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।