পাকিস্তান তেহরিক ই তালিবানের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হওয়া বাংলাদেশি তরুণের বাড়ি মাদারীপুরের কালিকাপুর ইউনিয়নের চরনাচনা গ্রামে। নিহত যুবকের নাম ফয়সাল হোসেন মোড়ল। সে ওই গ্রামের আউয়াল মোড়লের ছোট ছেলে।
দুই বছর আগে পরিবারের কাছে বায়না ধরে দুবাই যাওয়ার। পরিবার অর্থের যোগান দিতে না পারায় হঠাৎ নিখোজ হয়ে যায় ফয়সাল। তার প্রায় ছয় মাস পরে ফয়সালের বড় ভাইকে কল দিয়ে জানায় সে দুবাই অবস্থান করছে। গত ঈদুল আযহার সময় গ্রামের বাড়িতে চলে আসে ফয়সালের পরিবার। পরে মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারে ফয়সাল আফগানিস্তানে আছে। নিহত ফয়সালের ছবি দেখে নিহতের খবর নিশ্চিত করে তার চাচা আব্দুল হালিম মোড়ল। তবে ফয়সালের বাবার সাথে যোগযোগ করতে চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
গত শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায় পাকিস্তানী নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে ১৭ টিটিপি সদস্য নিহত হয়। এর মধ্যে একজন ছিলেন বাংলাদেশি যুবক ফয়সাল। ফয়সালরা দুই ভাই ও এক বোন। বোন নাছিমার বিয়ে হয়েছে বরিশালে। বড় ভাই আরমান মোড়ল একটি এনজিওতে চাকরি করেন।
ফয়সালের বয়স আনুমানিক ২১-২২ বছর হতে পারে বলে জানিয়েছে তার স্বজনরা। পরিবারের সহযোগীতায় দুবাই যেতে চাইলেও পরিবার তাকে সহযোগিতা না করায় হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় ফয়সাল। ২০২৪ সালেরর মার্চে দেশ ছেড়েছে বলে জানায় ফয়সালের পরিবার।
দেশে থাকতে মোড়ল হাট বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে তাসবিহ, টুপি ও আতরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিক্রি করতেন ফয়সাল। দেশ ছাড়ার প্রায় ৬ মাস পরে তার বড় ভাই আরমান মোড়লের কাছে মুঠোফোনে কল করে জানান তিনি দুবাই আছেন। যেভাবেই হোক টাকা সংগ্রহ করে তিনি দুবাই চলে গেছেন। সেখানে তিনি ভালো আছেন বলেও জানিয়েছিলেন।
তবে বিস্তারিত জানার জন্য বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তার সঠিক জবাব দিতেন না তিনি। তার প্রায় এক বছর পরে বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করা ফয়সালের বাবা আউয়াল মোড়ল ঢাকায় জীবন যাপনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে গ্রামে চলে আসেন। তখন মাদারীপুরের জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা খোঁজ খবর নিতে গেলে তারা জানতে পারে ফয়সাল আফগানিস্তান আছে। ওই কর্মকর্তার কাছে ফয়সালকে ফেরত আনার সহযোগিতা চাইলেও তেমন কোন সমাধান পায়নি পরিবার। রবিবার সকালে ফয়সালের পরিবার তার মৃত্যুর খবর জানতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগীতা কামনা করেছে ফয়সালে পরিবার।
ফয়সালের চাচা হালিম মোড়ল বলেন, তার ভাতিজার বিষয়ে তারা জানতে পারেন গত ঈদুল আযহার সময়। তখন পুলিশ জানায় তিনি আফগানিস্তানে আছেন। দেশ ছেড়ার প্রায় ৬ মাস পরে তার বড় ভাই আরমান মোড়লের কাছে মুঠোফোনে কল করে দুবাই আছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে ফয়সালের বাবার মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।