চোখ বন্ধ করার সুযোগ নেই, শেষ মুহূর্তে গোল আর গোল

নাটকীয় কিছু ঘটবে এমন কিছুর জন্য পরিচিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ (ইপিএল)। বিশ্বের অন্যতম কঠিন লিগ ভাবা হয় এই লিগকে। জনপ্রিয়তায় ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে সবার উপরে থাকে ইপিএল।

এবার প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত হয়েছে ছয় রাউন্ড। ষষ্ঠ রাউন্ডে প্রথমবারের মতো এক দিনে ৯০তম মিনিট বা তার পরবর্তী সময়ে ৮টি গোল হয়েছে। এমন ঘটনা ঘটেছে গেল শনিবার। এদিন প্রিমিয়ার লিগে ষষ্ঠ রাউন্ডের মোট ৭টি ম্যাচ ছিল। এই ৭ ম্যাচে মোট ৮ গোল ৯০ মিনিট বা পরে খেলার যোগকরা সময়ে। প্রিমিয়ার লিগে একদিনে এমন ঘটনা আর ঘটেনি দ্য অ্যাথলেটিক তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে এমন তথ্য।

৮ গোলের শেষটা হয় টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে, যেখানে জোয়াও পালহিনহা ৯৪ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান উলভসের বিপক্ষে। লিভারপুল এই মৌসুমে শেষ মুহূর্তে গোল করেছে সবচেয়ে বেশি। লিভারপুল ছয় রাউন্ডে তাদের ১২ গোলের অর্ধেকই শেষ ১০ মিনিটে করেছে। তবে শনিবার ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে তারা হেরেছে, সেটিও এডি নিকেতিয়াহর যোগকরা সময়ে করা গোলেই।

যোগকরা সময়ের বেশির ভাগ গোলই আবার হয়েছে স্টপ বলে। নিকেতিয়াহর গোলটি হয় লম্বা থ্রো থেকে, এছাড়া যোগকরা সময়ে ব্রাইটনের ম্যাক্সিম ডে কুয়পার গোলটি কর্নার থেকে, বোর্নমাউথের এলি জুনিয়র ক্রুপির গোল ফ্রি-কিক থেকে।

এছাড়া শনিবার ব্রেন্টফোর্ডের মাথিয়াস জেনসেন ৯৫ মিনিটে, ব্রাইটনের ওয়েলব্যাক ১০০ মিনিটে, সিটির হালান্ড ৯০ ও ৯৩ মিনিটে গোল করেন।

ভিএআর প্রভাবে যোগকরা সময় বাড়ছে

রিভিউ এবং কঠোর সময়-পরিচালনার কারণে ম্যাচই ৯৫ মিনিট পর্যন্ত চলে। লম্বা সময় ধরে খেলার কারণে শেষদিকে ডিফেন্সের পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে, খেলোয়াড়রা ক্লান্ত থাকেন। আর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা শেষ মুহূর্তের সুযোগ নিতে প্রস্তুত থাকে। ড্যানি ওয়েলবেকের স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ১০০তম মিনিটের গোল তার উদাহরণ। শেষ মুহূর্তের গোল ফুটবলের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত।

এই মৌসুমে যেন এটি প্রিমিয়ার লিগের একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। যোগকরা সময়ে গোলের প্রবণতায় কোচরা হয়তো হতাশ হবেন কিন্তু খেলা দেখতে আসা সাধারণ দর্শক জন্য এতে প্রিমিয়ার লিগ আরও দুর্দান্ত অভিজ্ঞতার করে তুলেছে। তাই বলাই যায় প্রিমিয়ার লিগ দেখতে গিয়ে চোখ বন্ধ করার সুযোগ নেই। একই কথা খেলোয়াড়দের জন্যও। কেননা, শেষ মুহূর্তেই হচ্ছে গোল।