পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে এবার সময়ের আগে দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার। সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে পর্বতশৃঙ্গটি দেখা গেলেও এবার সেপ্টেম্বরেই মেঘমুক্ত আকাশে ধরা দিয়েছে নয়নাভিরাম এই দৃশ্য। এতে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর পাড়, পুরাতন ডাকবাংলো, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বরফঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্বতের বরফচূড়ায় পড়ে রুপালি, দুপুরে সেটি আবার সোনালি এবং পড়ন্ত বিকেলে সেটি আবার লাল আভার পর্বতচূড়া মুহূর্তর দেখা মিলছে। এমন দৃশ্যে মুগ্ধ আগত দর্শনার্থীরা।
শুধু পঞ্চগড় বা পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে নয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুরসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসছেন তেঁতুলিয়ায়। অনেকে পরিবার নিয়ে রাত কাটাচ্ছেন এখানে। পর্যটকদের জন্য আবাসনের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। কমপ্লেক্সসহ বেশ কিছু ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা রিসোর্ট এখন পর্যটদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
পঞ্চগড় টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম বলেন, দার্জিলিং থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখেছি। তবে তেঁতুলিয়া থেকে দেখা এই দৃশ্য আলাদা। মনে হয় পাহাড় যেন সামনে দাঁড়িয়ে।
তেঁতুলিয়া ট্যুরিস্ট পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক রাব্বুল ইসলাম জানান, শীত মৌসুমে পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ তৎপর রয়েছে। স্থানীয়রাও সহযোগিতা করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু জানান, তেঁতুলিয়াকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রকৃতি ও পাহাড়প্রেমীদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় এলাকা।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,৫৮৬ মিটার উঁচু কাঞ্চনজঙ্ঘা বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। নেপাল ও ভারতের সিকিম সীমান্তে অবস্থিত এই পাহাড়ের দূরত্ব তেঁতুলিয়া থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার হলেও খোলা আকাশে তা একেবারে হাতছানির মতো মনে হয়।