পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এশিয়া কাপ ফাইনালে ট্রফি হস্তান্তর ইস্যুতে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে কোনো ধরনের ক্ষমা চাননি। ভারতীয় গণমাধ্যমের করা এ দাবি তিনি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গত রবিবার দুবাইয়ে এশিয়া কাপের সমাপনী অনুষ্ঠান ঘিরে দেখা দেয় বিতর্ক। শিরোপা জয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেট দল এসিসি প্রধান নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব অভিযোগ করেন, তাদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রফি দেওয়া হয়নি।
এরপর ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, নাকভি নাকি ট্রফি না দেওয়ার ঘটনায় বিসিসিআইয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বুধবার ইন্ডিয়া টুডে, ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও হিন্দুস্তান টাইমস–এর মতো সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নাকভি লিখেছেন, 'ভারতীয় মিডিয়া মিথ্যার ওপর বেঁচে আছে, সত্যের ওপর নয়। আমি পরিষ্কার করে জানাতে চাই—আমি কোনো ভুল করিনি, আর বিসিসিআইয়ের কাছে কখনো ক্ষমা চাইনি, ভবিষ্যতেও চাইব না।' তিনি এ অভিযোগকে “সাজানো বাজে কথা” ও “সস্তা প্রচারণা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে ভারতীয় জনতাকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নাকভি ভারতকে অভিযুক্ত করেন রাজনীতি টেনে এনে খেলাধুলার চেতনাকে নষ্ট করার জন্য।
'এসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি সেদিনই ট্রফি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম, এখনো আছি। যদি সত্যিই নিতে চায়, তারা এসে এসিসি অফিস থেকে ট্রফি সংগ্রহ করতে পারে,' বলেন নাকভি।
এর আগে সূর্যকুমার যাদব এশিয়া কাপ জয়ের পর জয় উৎসর্গ করেছিলেন জম্মু–কাশ্মীরের পাহালগামে মে মাসে হওয়া সন্ত্রাসী হামলার নিহতদের। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাকভি ভারতীয় দলের ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের অভাবের সমালোচনা করেছিলেন।
এ হামলার পর ভারত পাকিস্তানে বিমান হামলা চালায়, যদিও পাকিস্তান জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে। যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়, তবে এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।
এ প্রসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জানায়। পরে যাদবকে আইসিসির আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ম্যাচ ফির ৩০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হয়। এছাড়া হ্যারিস রউফ ও সাহিবজাদা ফারহানকেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অঙ্গভঙ্গির কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
ফাইনালের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দলের জয়কে “অপারেশন সিন্দুর”-এর ধারাবাহিকতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিনন্দন জানান। এর জবাবে নাকভি এক্স-এ লিখেন, “যদি যুদ্ধই গর্বের মাপকাঠি হয়, তবে ইতিহাসে পাকিস্তানের হাতে ভারতের লজ্জাজনক পরাজয়গুলো আগেই লেখা আছে। কোনো ক্রিকেট ম্যাচই সেই সত্যকে পাল্টাতে পারবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যুদ্ধকে খেলায় টেনে আনা কেবলই অসহায়ত্বের প্রকাশ, আর খেলাধুলার চেতনাকে কলঙ্কিত করে।”