কেউ বলে গুরু, কেউ নগরবাউল, অনেকে তাকে জানে রকস্টার হিসেবে। ঝাঁকড়া চুলের সংগীতপাগল এই মানুষটি হচ্ছেন জেমস। পুরো নাম ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস। নামটি শুনলেই রক সংগীতপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে এক রকস্টারের অবয়ব। যার গানে বহু রাত নির্ঘুম কেটে যায় হাজারো তরুণ-তরুণীর। জনপ্রিয় ব্যান্ডদল নগর-বাউলের দলনেতা এবং মূল ভোকালিস্ট তিনি। দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুনাম অর্জন করা এই পপস্টারের আজ জন্মদিন।
সংগীতের এই কালপুরুষ আজ স্পর্শ করলেন জীবনের ৬২তম বসন্ত। তবে প্রতিবারের মতো এবারও নিজের জন্মদিনে উল্লেখযোগ্য কোনো আয়োজন রাখেননি তিনি। তবে এবারও হয়তো শেষ বিকেলে ঠিকই কাছের মানুষরা কেক-বেলুন এবং নানা রকম উপহারসামগ্রী নিয়ে হাজির হবেন তার বাসায়। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল বুধবার রাত থেকেই শুরু হয়ে গেছে শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনের পালা। ভক্তদের এই ভালোবাসায় সিক্ত জেমস।
১৯৬৪ সালের এই দিনে (২ অক্টোবর) নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন জেমস। বেড়ে ওঠা এবং সংগীতে জড়িয়ে পড়ার পুরোটাই চট্টগ্রামে। নগর-বাউল জেমসের বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। যিনি পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরিবারের একরকম দ্বিমতে সংগীতচর্চা শুরু করেন জেমস। একসময় তিনি সংগীতের জন্য ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। ওঠেন চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে। সেখানে থেকেই তার সংগীতের মূল ক্যারিয়ার শুরু হয়।
জেমস ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ব্যান্ড ‘ফিলিংস’। ১৯৮৭ সালে প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ পায়। ১৯৮৮ সালে ‘অনন্যা’ নামের একক অ্যালবাম প্রকাশ করে সুপারহিট হয়ে যান জেমস। এরপর ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ ‘নগর-বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অব ফিলিংস’ অ্যালবামগুলো প্রকাশ পায়। এরপর ‘ফিলিংস’ ভেঙে জেমস গড়ে তোলেন নতুন লাইনআপে ব্যান্ড ‘নগর-বাউল’। এই ব্যান্ডটি যেন ‘দুষ্টু ছেলের দল’ এবং ‘বিজলি’ অ্যালবাম দুটির মধ্যেই আটকে যায়। জেমসের উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে স্টেশন রোড (১৯৮৭), জেল থেকে বলছি (১৯৯০), নগর-বাউল (১৯৯৬), লেইস ফিতা লেইস (১৯৯৮), কালেকশন অব ফিলিংস (১৯৯৯), দুষ্টু ছেলের দল (২০০১) প্রভৃতি।
জেমসের গাওয়া একক অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে অনন্যা (১৯৮৮), পালাবি কোথায় (১৯৯৫), দুঃখিনী দুঃখ করো না (১৯৯৭), ঠিক আছে বন্ধু (১৯৯৯), আমি তোমাদেরই লোক (২০০৩), জনতা এক্সপ্রেস (২০০৫), তুফান (২০০৬) ও কাল যমুনা (২০০৯)। ২০০৪ সালে কলকাতার সংগীত পরিচালক প্রিতমের সঙ্গে গান নিয়ে কাজ করেন জেমস। ২০০৫ সালে বলিউডে গ্যাংস্টার চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া ভিগি ভিগি গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং এক মাসেরও বেশি সময় গানটি বলিউড টপচার্টের শীর্ষে ছিল।
২০০৬ সালে আবার বলিউডের ছবিতে কণ্ঠ দেন। ২০০৭ সালে তিনি লাইফ ইন এ মেট্রো চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া গান দুটি হলো রিশতে এবং আলবিদা। আর তাতেই বাজিমাত। জেমসের গাওয়া সেরা ১০ গানের মধ্যে বাংলাদেশ, জেল থেকে আমি বলছি, মা, দুঃখিনী দুঃখ করো না, লেইস ফিতা লেইস, বাবা কত দিন, বিজলি, দুষ্টু ছেলের দল, মিরাবাঈ, পাগলা হাওয়া, গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া উল্লেখযোগ্য।