পূজায় নিত্যপণ্যের দাম ছিল বেশি

যেকোনো উৎসবেই বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দুর্গাপূজায় চাল, তেল থেকে শুরু করে মাছ-মাংসসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বছরের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হওয়ায় অন্যান্য ব্যয়ের তাদের সঙ্গে সংসার খরচ বেড়েছে।

রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় বাজারে মানভেদে চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল, মাছ ও মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সময়ে পেঁয়াজ, রসুন ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি পূজাকেন্দ্রিক বাজারে সব ধরনের শাক-সবজির দাম বেশি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি চিকন চাল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর এ সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৬৪ থেকে ৮০ টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজি চিকন চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ থেকে ১১ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে মাঝারি মানের চাল কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডালের দামের মধ্যে মোটা ডালের দাম কিছুটা কমলেও মাঝারি ও ছোট দানার ডালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। টিসিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি বড় দানার মশুর ডাল ৯৫ থেকে ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যা গত বছর এ সময়ে দাম ছিল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। মাঝারি মানের মশুর ডালের কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর একই সময়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা। ছোট দানার মশুর ডালের কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় অ্যাংকর ডালের কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে বলে টিসিবি তথ্য দিচ্ছে। প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

আটা ও ময়দার মধ্যে খোলা আটার কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫২ টাকায়। যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। খোলা ময়দার কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ থেকে ৬৫টি টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেট আটার কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট ময়দার কেজি ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা। যা গত বছর এ সময়ে ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।

আলোচ্য সময়ে ভোজ্যতেলের মধ্যে সব ধরনের তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৮ টাকা। যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ১৫১ থেকে ১৫৫ টাকা। এ হিসাবে প্রতি লিটার খোলা তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ থেকে ২৩ টাকা। আর বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৮ থেকে ১৯০ টাকায়। যা গত বছর ছিল ১৬৭ টাকা বা তারও কম। আর বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৯০ থেকে ৯২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া খোলা পাম অয়েলের লিটারে ১৬ থেকে ১৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৩ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুপার পাম অয়েলের লিটারে ১০ থেকে ১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৫ থেকে ১৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর রাইস ব্রান তেলের ৫ লিটার গত বছর যেখানে ৯০০ টাকায় পাওয়া যেত এখন সেই তেল কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৩০ টাকা বা তারও বেশি দামে।

তবে চাল, ডাল, তেল ও আটা-ময়দার দাম বেশি থাকলেও গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে মসলাজাত পণ্যের দাম কমেছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা গত বছর এ সময়ে ছিল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। দেশি রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। গত বছর ছিল ২১০ থেকে ২২০ টাকা। আমদানি রসুনের কেজি ১৩০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর একই সময়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

মাছের মধ্যে প্রায় সব মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলিশের ভরা মৌসুমেও মাছটির দাম ছিল সাধারণের হাতের নাগালের বাইরে। ছোট আকারের (৪ পিসে কেজি) ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। যা গত বছর ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া গেছে। আর আকারভেদে এক কেজি বা তারও বেশি ওজনের প্রতি কেজি ইলিশের দাম ছিল ১ হাজার ৮ থেকে শুরু করে ২ হাজার ৫০০ বা তারও বেশি। যা গত বছর একই সময়ে ১৫ থেকে ২ হাজার টাকায় পাওয়া গেছে।

এদিকে ইলিশ মৌসুমে দাম না কমায় রুই-কাতলাসহ অন্যান্য মাছের দামও বেশি। প্রতি কেজি রুই-কাতলা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর এ সময়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রাজধানীর এলাকাভেদে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে, ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা বা তারও বেশি দামে। যা গত বছর ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে গত বছরের তুলনায় বাজারে প্রতি হালি ফার্মের ডিমের দাম কমেছে ৫ থেকে ১০ টাকা। প্রতি হালি ফার্মের (লাল বা বাদামি) ডিম বিক্রি হচ্ছে, ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

এদিকে নিত্যপণ্যের সঙ্গে পূজা উপলক্ষে বাজারে সব ধরনের শাক-সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শিমের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি সংকট ও দাম বাড়তি দেখা গেছে কাঁচা মরিচের। মসলাজাতীয় এই পণ্যটির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকায় উঠেছে। কাঁচা পেঁপে কম দামে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। আর কচুরমুখী ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া শসা, মিষ্টিকুমড়া ও ধুন্দল ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাকি প্রায় সব সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ সবজির দামই কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে সপ্তাহের ব্যবধানে।