দেম্বেলে-দুয়েকে ছাড়াই পিএসজি হারাল বার্সেলোনাকে

এস্তাদি অলিম্পিক লুইস স্টেডিয়ামে দেড় বছর আগের স্মৃতি ফেরাল পিএসজি। ২০২৪-এর ১৬ এপ্রিল চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে পিএসজি ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল পিএসজিকে। এবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পিএসজি ২-১ গোলে হারাল কাতালানদের। উসমান দেম্বেলে-দিজিরে দুয়েকে ছাড়া খেলতে নেমে পিএসজি জিতেছে ৯০ মিনিটে করা গঞ্জালো রামোসের গোলে। উইঙ্গার খিচা কাভারেস্কাইয়া ও রক্ষণভাগে মার্কিনহোসও ছিলেন না এই ম্যাচে।

১৪ মিনিটে লামিন ইয়ামালের পাস পেয়ে পিএসজির গোলকিপারকেও কাটান ফেরান তোরেস। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় জোরে শট নিতে পারেননি এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। গোললাইন থেকে বল ফেরান জাবারনি। ১৯ মিনিটে আর ব্যর্থ হননি তোরেস। ইয়ামালের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি বক্সে ক্রস করেন মার্কাস রাশফোর্ড। গোল করেন তোরেস। ৩০ মিনিটে আশরাফ হাকিমির ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন বার্সেলোনা গোলকিপার সেজনি। তবে ৩৮ মিনিটে নুনো মেন্দেসের পাসে ডি বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন সেনি মায়ুলু। ৬৬ মিনিটে রাশফোর্ডের ফ্রি কিক ফেরান পিএসজি গোলকিপার, ফিরতি বলে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ইয়ামাল। ৮৩ মিনিটে পিএসজির লি ক্যাং-ইনের শট ব্যর্থ হয় পোস্টে লেগে। শেষ ১০ মিনিটে একের পর এক আক্রমণে বার্সেলোনাকে চেপে ধরে পিএসজি। ৯০ মিনিটে হাকিমির ক্রস থেকে গোল করেন রামোস।

ম্যাচের পর বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক বলেন, ‘কোনোভাবেই বলা যায় না আমরা (বার্সেলোনার সঙ্গে) একই পর্যায়ে আছি। তবে আমার দলের ওপর ভরসা আছে। দিনটি আমাদের ছিল না। তবে ওই পর্যায়ে যেতে আমরা কাজ করছি। পিএসজির মান আমরা দেখতে পেয়েছি এবং আমি শতভাগ নিশ্চিত, আমরাও এই পর্যায়ের ফুটবল খেলতে পারি। খেলা তো ৯০ মিনিটের। গোটা দলকেই রক্ষণ সামলাতে হবে, আক্রমণে উঠতে হবে, জায়গা কাজে লাগাতে হবে ও বল ধরে রাখতে হবে।’ পিএসজির তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফ্লিক বলেন, ‘তরুণ ফুটবলাররা উঠে আসছে, তাদের মান দারুণ, বল পায়ে তারা গতিময়। তরতাজা কয়েকজনকে মাঠে নামিয়েছিল তারা, যারা দলের মান আরও বাড়িয়েছে। আমাদের শুরুটা ভালো হলেও ৩০ মিনিট পর পিএসজি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না।’

হালান্ডের জোড়া গোল তবু...

গেল মৌসুমটা ভালো কাটেনি ম্যানচেস্টার সিটির। এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ছয় ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ১০। চ্যাম্পিয়নস লিগেও দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট খেলো পেপ গার্দিওলার দল। আর্লিং হালান্ড জোড়া গোল করেন। তবে শেষ পর্যন্ত মোনাকো ও সিটির ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। সিটি তখন ২-১ গোলে এগিয়ে, ৮৫ মিনিটে ডি-বক্সে মোনাকোর এরিক ডায়ারকে ফাউল করে বসেন নিকো গঞ্জালেজ, অনেকটা বিলম্বের পর ভিএআর মনিটরে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। নিজেই স্পট কিক নিয়ে সমতা টানেন ইংলিশ ডিফেন্ডার ডায়ার। তার আগে ১৫ মিনিটে গাভার্দিওলের উঁচু করে বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে শটে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে জালে জড়ান হালান্ড। তিন মিনিট পর জর্ডান টেজে গোল করলে ১-১ হয়। ৪৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান হলান্ড। বাঁ-দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রসে হেডে গোলটি করেন তিনি। চলতি আসরে দুই ম্যাচে তার গোল হলো তিনটি। চ্যাম্পিয়নস লিগে তার গোল ৫২টি, ৫০ ম্যাচে। চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড লিওনেল মেসির, করেছিলেন ৮০ ম্যাচ খেলে। তাকে পেছনে ফেলতে হলান্ডের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ম্যাচ শেষে হালান্ড অবশ্য আক্ষেপ করলেন ম্যাচ না জেতায়। ‘আমার মনে হয় না আমরা ভালো খেলেছি। জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল না। প্রথমার্ধে যা করেছি, এর চেয়ে বেশি কিছু করা দরকার ছিল। যথেষ্ট ভালো খেলতে পারিনি আমরা। পরের ম্যাচটি জয়ের চেষ্টা করতে হবে।’

সিটি পা পারলেও জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে আরেক ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। নিজেদের মাঠ এমিরেটসে আর্সেনাল ২-০-তে হারিয়েছে অলিম্পিয়াকোসকে। গার্নাসদের হয়ে ১২ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি গোল করেন। ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্যবধান বাড়ান বুকায়ো সাকা।

নিউক্যাসল চার গোলের জয় পেয়েছে ইউনিয়ন সেন্ট-গিলয়সের বিপক্ষে। জোড়া গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তার দুটি গোলই ছিল পেনাল্টি থেকে। রাসমুস হইলুন্ডের জোড়া গোলে নাপোলি (২-১) হারিয়েছে স্পোর্টিং সিপিকে। জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ৪-১ গোলে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে হারিয়েছে। আরেক স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালে আটকে গেছে জুভেন্তাস। ২-২ গোলে ড্র হয় ম্যাচটি।