কমলনগর

সভাপতির একক কর্তৃত্বে জেএসডিতে ক্ষোভ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আবদুল মোতালেবের একক কর্তৃত্বে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও খাম খেয়ালিপনায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে এমন ধারণা করছেন নেতাকর্মীরা। দলীয় পদ ও দলের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে তার অব্যাহতি দাবি করছেন।

স্থানীয় জেএসডির নেতাকর্মীরা জানান, কমলনগর উপজেলা সৃষ্টির পর থেকে জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আবদুল মোতালেব। দলের ক্ষমতাসীন প্রভাবে তার একক আদিপত্য চলছে। দলের মধ্যে তার সমকক্ষ কেউ নেই, এমন ভাবনায় নেতাকর্মীদের সাথে খুব খারাপ আচারণ করছেন তিনি। তার মনগড়া সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন অপকর্মের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করা হলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এতে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এক সময়ের জেএসডির ঘাটি খ্যাত এ অঞ্চল এখন নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ছে। ২৫ বছর ক্ষমতার বাহিরে থাকার পরেও আ স ম আব্দুর রবের ভালোবাসায় যারা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বর্তমানে তার লোভ, হিংসা ও অশোভন আচরণে অনেকেই দল ছেড়ে সরে যাচ্ছেন।

‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাহিরে থাকা জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাবেক ডাকসুর ভিপি আ স ম আবদুর রব ২০১৮ সালে বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে ভোটে অংশ নেন। তখনকার সময় এ উপজেলায় ভোটের সকল দায়িত্ব আবদুল মোতালেব পালন করেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াতের একটি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করলেও দলের নেতাদের তেমন একটা মূল্যায়ন করেননি তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে আ স ম আবদুর রবের নাম তালিকায় রয়েছে। সে হিসেবে আবদুল মোতালেব মনে করছেন বিএনপিসহ সকল সমমনা দলগুলোর ভোট হলে এ আসনে আ স ম রব অথবা তানিয়া রব এমপি হবেন। তাই জেএসডির নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করলেও চলবে। এ জন্যই আবদুল মোতালেব দলের কোনও নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ না করে একক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, আবদুল মোতালেব মনে করছেন আগামী দিনে ভোটের মাঠে জেএসডির কোনও নেতাকর্মীর দরকার নাই। তিনি একাই সব করতে পারবেন, এটা ভুল। এতে তিনি দলের ক্ষতি ডেকে আনছেন। এখন তিনি বার বার ভুল করলে তার দায়ভার তো আমরা নেব না।

কমলনগর উপজেলা যুবপরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান বেলাল বলেন, দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পিওনও যদি তিনি হন তাহলে দলের অবস্থা কি হবে বুঝতে পারেন। আব্দুল মোতালেব কাউকে বিশ্বাস করেন না। আর কথায় কথায় সবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এটা দলের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছি।

উপজেলা জেএসডির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চরমার্টিন ইউনিয়ন জেএসডির সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম বাবুল মুন্সি বলেন, আবদুল মোতালেবের সকল অপকর্ম কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত। যাদের দল তারা সব জেনেও যদি কোনও ব্যবস্থা না নেন তাহলে আমাদের আর কি করার আছে। এ জন্য আমরা নীরব ভূমিকায় রয়েছি।

উপজেলা জেএসডির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ডিলার বলেন, মোতালেব স্যার কোনও প্রোগ্রাম হলে শুধু হুকুম দেন। আমরা শুধু তার হুকুমই পালন করি। এ ছাড়া আর কিছুই জানি না। তারপরও দল ভালো চলুক এটা আমরা চাই।

এ বিষয়ে উপজেলা জেএসডির সভাপতি আবদুল মোতালেবের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জেলা জেএসডির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর হারুনুর রশিদ বলেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে কিছু দলীয় নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। যারা কথা বলছেন তারা বেশি ভাগই দলের দায়িত্বে নেই। তারা সভাপতির বিরুদ্ধে যেসব বলছেন তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত বক্তব্য দিচ্ছেন।