কমলনগরে দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব ৫ পরিবার

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রতারণা করে সৌদি আরব নিয়ে ৫ পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছেন দালাল চক্র। ক্ষতিপূরণ দাবি করায় উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। আজ সোমবার সকালে কমলনগর প্রেস ক্লাবে দালালদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তারা।

‎এদের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা উপজেলার কালকিনি ইউনিয়ন বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গির বলেন, চরমার্টিন এলাকার আমিন উল্লাহর দুই ছেলে মানিক ও মোকতার সৌদি আরব থাকেন। এর সুবাদে আমিন উল্লাহ তার ছেলেদের মাধ্যমে সৌদিতে লোক পাঠাবে বলে আমাদের ৫ জনের কাছ থেকে ২৩ লাখ টাকা করে নেয়। আমিন উল্লাহ সঙ্গে আমাদের মৌখিক চুক্তি হয়। কথা ছিল আমাদের সৌদিতে নিয়ে ১৫ মাসের আকামা এবং কাজ নিয়ে দেবে। চুক্তিমতো আমিন উল্লাহর ছেলে আমাকে গত বছরের ১০ জানুয়ারি সৌদির আবাহ এলাকায় নেয়। আমার আগে পরে একই চুক্তিতে চরমার্টিন এলাকার হানিফ মোল্লার ছেলে তারেক, ইউছুপ মাঝির ছেলে কামাল, আলমগীরের ছেলে রিয়াজ ও জহিরুল ইসলামকে সৌদিতে নেয়। ওখানে নিয়ে আমাদের ৩ মাস বাসায় রাখে এবং কোনো কাগজপত্র করে দেয়নি তার ছেলেরা। পরে তার ছেলেরা আমাদের তিন মাসের একটা আকামা করে দেয়। সৌদিতে যাওয়ার ৭ মাসের মাথায় সে দেশের পুলিশ আমাকে আটক করে জেলে নিয়ে যায়। আমি ১২ দিন জেল খাটার পর আমাকে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি সৌদি সরকার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। পরে জানতে পারি আমাদের তিন মাসের জন্য আকামা বানানো হয়। আমাকে পুলিশ আটক করার পর বাকি সবাই পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে রিয়াজকে পুলিশ আটক করে জেলে নিয়ে যায়। আমি দেশে এসে প্রকৃত ঘটনা এবং সৌদিতে বাকি যারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের পরিবারদের সঙ্গে নিয়ে এলাকার ব্যক্তিদের জানাই। এলাকার গণ্যমান্যরা অভিযুক্ত আমিন উল্লাহকে এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধানের কথা বলেন। পরে আমিন উল্লাহ উল্টো ১৮ ফেব্রুয়ারি আমিসহ যারা এখনও যারা সৌদিতে আছে তাদের বাবা ও ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার আরেক আসামি তারেকের বাবা হানিফ মোল্লাহ সংবাদ সম্মেলন বলেন, তার ছেলেকে আমিন উল্লাহ খপ্পরে পড়ে সৌদিতে পাঠান। ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার পর আবার আকামার কথা বলে আমার কাছ থেকে আমিন উল্লাহ আরও ৮০ হাজার টাকা নেয়। আমার ছেলে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এখন সৌদিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন শুনি আমাকে এক নম্বর আসামি এবং আমার ৪ ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এ সব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

সৌদিতে পালিয়ে থাকা কামালের বাবা ইউছুপ মাঝি জানান, মেঘনার ভাঙনে সহায় সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। মাথা গোঁজানোর জন্য সামান্য একটু জমি কিনে কোনও মতে দিন কাটানোর চেষ্টা ছিল তার। পরিবারের একটু সুখের আশায় দালালের কথা মতো জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠান তিনি। এখন জমিও শেষ, ছেলেরও খোঁজ নেই। উল্টো মামলার আসামি। এই কথা বলতেই স্ত্রীসহ কেঁদে ওঠেন তিনি। সৌদিতে পালিয়ে থাকা জহিরুল হকের স্ত্রী সেলিনা বেগমও তার অসহায়ত্বের বর্ণনা দিয়ে দালালদের বিচার চান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিন উল্লাহ সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে অভিযুক্ত মানিক দাবি করেন, এসব কল্পকাহিনী, এসব অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত