টাঙ্গাইলের সখীপুরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরির ঘটনা। প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, গরু, দোকান কিংবা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে। গত তিন মাসে ৩০টিরও বেশি চুরি সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই ১৪টির বেশি গরু চুরি হয়।
জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর ভোরে বোয়ালী গ্রামের জুলহাস মিয়ার অটোরিকশা চুরি হয়। পরদিন রাতে একই গ্রামের আমান উদ্দিনের বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার, রুপা, নগদ ৪০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ও দুটি মাটির ব্যাংক চুরি হয়। ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে নলুয়া এলাকার প্রবাসী ফিরুজ আল মামুনের বাসায় তালা ভেঙে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৩৭ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোরেরা।
৭ সেপ্টেম্বর রাতে বহেড়াতৈল ইউনিয়নের কালিয়ান বাজারের তিনটি দোকানে চুরি হয়। ইউনিক স্টোর থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকার মালপত্র ও নগদ টাকা, ইমন টেলিকম থেকে ২৪ হাজার টাকা চুরি হয়। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের প্রতিমা বংকী পশ্চিমপাড়ার আবদুল গফুর মিয়ার বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে নগদ টাকা ও মোবাইল চুরি হয়।
১১ সেপ্টেম্বর রাতে বানিয়ারছিট বাজারপাড়ায় হেকমত আলীর বাড়িতে চুরি হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে মধ্য আড়াইপাড়া থেকে মোস্তফা সরকারের মোটরসাইকেল চুরি হয়। একই দিনে কাকড়াজানে অটোচোর গণধোলাইয়ে নিহত হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে কচুয়া কেরানী মোড়ের বিপ্লব মিয়ার অটোরিকশা ও যাদবপুর ইউনিয়নের আলাল মিয়ার দুটি গরু চুরি হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর নলুয়া বাজারে অটোরিকশা চুরির সময় দুজন জনতার হাতে ধরা পড়ে। ৩০ সেপ্টেম্বর কচুয়া গ্রামের মোতালেব হোসেনের বাড়ির তালা ভেঙে ১৫ হাজার টাকা চুরি হয়।
সম্প্রতি পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারটি অটোরিকশার ব্যাটারি উদ্ধার ও মালেক (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। চুরি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাকড়াজান ইউনিয়নের গড়বাড়ি বাজারে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সখীপুর থানার ওসি আবুল কালাম ভূইয়া বলেন, চুরি বন্ধে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা ৬টি টহল টিম গঠন করেছি, যারা রাতে বিভিন্ন এলাকায় তৎপর আছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও সচেতন থাকতে হবে।