সেপ্টেম্বরে সার্বিক রপ্তানি কমেছে ৪.৬১ শতাংশ

তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে। যে কারণে দেশের সামগ্রিক রপ্তানিও কমে গেছে। সবশেষ গত সেপ্টেম্বরে আগের বছর সেপ্টেম্বরের তুলনায় রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে বলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে উঠে এসেছে। তবে একক মাস হিসেবে রপ্তানি কমলেও বেড়েছে প্রথম প্রান্তিকে। প্রথম প্রান্তিকে মোট রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ইপিবির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যমতে, এ বছরের গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের তৈরি পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (১২১.৮১ টাকা ধরে) ৪৪ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৫ লাখ ১৯ হাজার ৮০০ টাকা। এ ছাড়া অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

তবে এক মাসের হিসাবে রপ্তানি আয় কমলেও প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রথম তিন মাসের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাবে ভারত এবং চীন সামগ্রিকভাবে পোশাক রপ্তানিতে চাপে রয়েছে। এই অবস্থায় ভালো করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। যার প্রভাবেই প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকের হিসাবে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে। এর মধ্যে নিটওয়্যারে ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং ওভেনে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রথম প্রান্তিকে। 

ইপিবি বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৮০ কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা কমে এ মাসে দাঁড়িয়েছে ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারে। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ কোটি ৫২ লাখ ৯০ হাজার ডলার রপ্তানি আয় কমেছে। যা শতাংশের হিসেবে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ কম।

ইপিবির তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর এই তিন মাস মিলে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস রপ্তানি আয় হয়েছিল ১ হাজার ১৬৫ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

ইপিবির তথ্য বলছে, বরাবরের মতোই রপ্তানি আয়ে শীর্ষে রয়েছে পোশাক খাত। তবে গত মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি কমে গেছে। যা প্রভাব ফেলেছে সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে। গত সেপ্টেম্বরে পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ২৮৩ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ৩০১ কোটি ১ লাখ ১০ হাজার ডলার। তিন মাসে পোশাক পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ৯৯৭ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার ডলার। এর আগের বছর ২০২৪ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে আয় হয়েছে ৯৫১ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার সমপরিমাণ পণ্য।

রপ্তানি আয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কৃষিপণ্য এবং এ খাতেও রপ্তানিতে  নেতিবাচক ধারা দেখা গেছে। সেপ্টেম্বর মাসে কৃষিপণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ১০ কোটি ১৯ লাখ ডলার। যা ২০২৪ সালে ছিল ১০ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ রপ্তানি নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা চামড়া ও চামড়া জাতীয় পণ্যে রপ্তানি বাবদ গত সেপ্টেম্বর মাসে আয় হয়েছে ৯ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

রপ্তানি আয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা পাট ও পাটজাতীয় পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় এসেছে ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৭ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ গত বছরের তুলায় ১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কমেছে।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে গৃহস্থালি পণ্য খাত। এ খাতে গত সেপ্টেম্বর মাসে পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অথাৎ শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ কমেছে। তবে এই সময়ে প্রিন্টেড মেটেরিয়ালস এবং ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্টস পণ্য রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ৫৭.৫০ এবং ৩৬.৪৩ শতাংশ।