মানুষ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কোনো না কোনো চাহিদা, আকাক্সক্ষা ও দুর্বলতার মধ্যে থাকে। কখনো দুঃখে, কখনো সুখে, কখনো সংকটে আবার কখনো অনিশ্চয়তার অন্ধকারে সে কারও কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে চায়। এ সাহায্য প্রার্থনার প্রকৃত ঠিকানা মহান আল্লাহ। এর নামই দোয়া। আর তিরমিজি শরিফের হাদিসে দোয়াকে বলা হয়েছে ইবাদতের মূল।
বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, দোয়াই হলো ইবাদত। এ দোয়ার মাধ্যমে বান্দা তার রবের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করে, আর দোয়ার ভেতরেই নিহিত থাকে মানুষের আত্মসমর্পণ, বিনয় আর একান্ত নির্ভরতার প্রকাশ। কোরআন-হাদিসে দোয়ার গুরুত্ব, দোয়ার নমুনা ও দোয়ার আদব নিয়ে অসংখ্য নির্দেশনা পাওয়া যায়। দোয়া যেমন বান্দার দুর্বলতাকে আল্লাহর দরবারে প্রকাশ করে, তেমনি আল্লাহর অসীম দয়া ও করুণাকে আহ্বান করে।
রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মতকে দোয়া করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং প্রতিটি বিষয়ে নির্দিষ্ট দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। কখনো কখনো তিনি কোরআনের সুরার মতো দোয়া মুখস্থ করাতেন। এর পেছনে গভীর হেকমত রয়েছে। আল্লাহ ও তার রাসুলের শেখানো দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক।
মহান আল্লাহ প্রথম মানব আদম (আ.)-কে দোয়া শিখিয়েছেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর আদম তার রবের পক্ষ থেকে কিছু বাণী শিখে নিল, ফলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী, অতি দয়ালু।’ (সুরা বাকারা ৩৭)
বান্দা যখন কিছু চায়, তখন আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। না চাইলে তিনি অসন্তুষ্ট হন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে না চায়, তার ওপর তিনি অসন্তুষ্ট হন।’ (তিরমিজি ৩৩৭৩)
লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার