ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, চুক্তি চূড়ান্ত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতের নির্ধারিত সীমা- রেড লাইন সম্মান করতে হবে।
হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, রবিবার নয়াদিল্লিতে কৌটিল্য ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কসহ বিভিন্ন বাণিজ্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিছু সমস্যা রয়েছে। এখনও আমরা বাণিজ্য আলোচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। কিছু শুল্ক আমাদের ওপর আরোপিত হয়েছে, যা প্রকাশ্যে অনযৌক্তিক বলে বলা হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি সংগ্রহের জন্যও দ্বিতীয় শুল্ক আরোপিত হয়েছে। আমি বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছি না। তবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, এমন পর্যায়ে পৌঁছানো যেখানে সম্পর্কের সব দিক আলোচনা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক স্তরে সমস্যা অস্বীকার করা যায় না। এসব নিয়ে আলোচনা ও সমাধান প্রয়োজন, এবং ভারত সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা বাস্তব জগতে কাজ করি এবং এই মুহূর্তে ৫০ শতাংশ শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছি। তাই এই বিষয়ে যা ঘটুক না কেন, চূড়ান্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে বলেন, ‘সংলাপের মূল কারণ শুধুই মার্কিন বাজার নয়, বরং এই চুক্তি বিশ্বের বড় অংশকে স্পর্শ করে। তবে চুক্তি করা হলে নয়াদিল্লির রেড লাইনকে সম্মান করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে, দেশটি ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়ান তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। মস্কোর তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করে ট্রাম্প। এর প্রভাবে ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা যে কোনো আমেরিকান বাণিজ্য অংশীদারের ক্ষেত্রে সর্বাধিক।
উড়িষ্যা রাজ্যে সম্প্রতি উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ইন্টারনেট বন্ধ এবং কারফিউ জারি করেছে। শুক্রবার কাটক শহরে দুর্গাপূজার বিসর্জন শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার স্থানীয় প্রশাসন ৩৬ ঘণ্টার কারফিউ জারি করে এবং শহরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখে।
এনডিটিভি জানায়, দরগাহ বাজার এলাকায় শোভাযাত্রার সময় উচ্চ শব্দে সাউন্ড বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর রাজনৈতিক মহলগুলোর ‘বন্ধের ডাক’ ও শান্তির আহ্বান মিলিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। কাটক শহর দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে শোভাযাত্রা কাটাজোড়ি নদীর তীরে যাওয়ার পথে একদল স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিরোধ করেন। তারা উচ্চ শব্দে গান বাজানোয় আপত্তি তোলেন। দ্রুত বিতর্ক সংঘর্ষে রূপ নেয়; ছাদ থেকে পাথর ও বোতল ছোড়া হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়। এতে কাটকের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ খিলাড়ি ঋষিকেশ দ্যানদেওসহ কয়েকজন আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হালকা লাঠিচার্জ চালায়। এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি, ড্রোন এবং মোবাইল ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করছে।