নেইমারের সময় ফুরিয়ে গেছে? তিনি কি অতীত হয়ে যাচ্ছেন?

ক্যারিয়ারের হতাশাজনক সময় কাটাচ্ছেন নেইমার। ইনজুরির কারণে গত বছর তিনেক ধরে মাঠের বাইরেই থাকতে হচ্ছে বেশিরভাগ সময়। প্যারিস সেন্ট জার্মেই এবং সৌদি আরবের হিল আলহাল থেকে ফিরে নিজের জন্মস্থান সান্তোস ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। তবু চোট তার পিছু ছাড়ছে না। ৩৩ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের জন্য বড় প্রশ্ন হলো- তিনি কি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন?

ফুটবরের বাইরে থাকা নেইমার সম্প্রতি অনলাইন পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রায় ৭৩ হাজার ৮০০ পাউন্ডের পুরস্কার জিতেছেন! চোটের সঙ্গে লড়াইয়ে এটা হয়তো তাকে স্বস্তি দেবে। কিন্তু সান্তোসে ফেরার পর নেইমারের ফর্ম প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক। তিনি আশা করেছিলেন, নিজ দেশে ফিরে হয়তো নতুনভাবে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ ফিরে পাবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করার সময় নেইমারের নাম তালিকায় ছিল না। দুই বছর ধরে সেলেসাও দলে অনুপস্থিত নেইমারের শেষ খেলা ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে উরুগুয়ের বিপক্ষে। ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি তোস্তাও তার কলামে লিখেছেন, ‘তারকাদেরও প্রমাণ করতে হয় যে তারা ফিট। সময় সীমিত।’

জাতীয় দল কিংবা ক্লাব ফুটবলে নেইমারের অবদান এখন আগের মতো নেই। সান্তোসের হয়ে প্রায় ৪৭% ম্যাচ তিনি মিস করেছেন, এবং তার গোল বা অ্যাসিস্টের বেশিরভাগই এসেছে দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে। তবুও ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি আশ্বাস দিয়েছেন, ‘নেইমারে জুনের জন্য (বিশ্বকাপ) নিজেকে প্রস্তুত করা উচিত। অক্টোবর, নভেম্বর বা মার্চে তার দলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

এরপরও সমর্থক ও বিশ্লেষকরা বিভ্রান্ত। এক জরিপে দেখা গেছে, ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে নেইমারের বিশ্বকাপ দলে থাকা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে – ৪৮% সমর্থন করেন, ৪১% বিরোধিতা করেন। কিংবদন্তি কাফু মন্তব্য করেছেন, ‘যদি সেই খেলোয়াড়কে কেবল প্রযুক্তিগত কারণে বাদ দেওয়া হয়, যার ওপর আমরা সব আশা রেখেছি, তাহলে স্পষ্ট কিছু ঠিক নেই।’

নেইমার অবশ্য এখনো বিশ্বের শীর্ষ গোলদাতা। ৭৯ গোল দিয়ে তিনি পেলের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন, কিন্তু মাঠে মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও দর্শকদের সঙ্গে ঠোকাঠুকি তাকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছে। এখন সময় নেইমারের জন্য শেষ। কিছু বিশেষ মাসে তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি এখনও ব্রাজিলের জন্য খেলতে সক্ষম – অন্যথায় বিশ্বকাপে তার আসন ঝুঁকিতে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। নেইমার কি পারবেন ঘুরে দাঁড়াতে?