পাকিস্তানকে হারানোর মধ্য দিয়ে আসরে শুভ সূচনার আত্মবিশ্বাস নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামেন জ্যোতিরা। গত বিশ্বকাপে এই দলটির মুখোমুখি হয়ে ২৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৩৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের নারীরা। চার বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপ মঞ্চে দ্বিতীয় দেখায় আম্পায়ারদের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হওয়ার পরও চোখে চোখ রেখে লড়াই করেন বাংলাদেশের নারীরা। তবুও ম্যাচ হারতে হয়েছে ৪ উইকেটের ব্যবধানে।
গৌহাটির বর্ষাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। ব্যাট হাতে ভালো সূচনা পায় বাংলাদেশ। প্রথম ৩ ওভারেই আসে ২১ রান। কিন্তু এরপরই শুরু হয় উইকেট পতনের ধারা। আগের ম্যাচে ফিফটি করা রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক ও ফর্মে থাকা শারমিন আক্তার সুপ্তার ওপেনিং জুটিতে আসে ২৪ রান। ঝিলিক ফেরেন ৯ বলে ৪ রান করে। পরের ওভারে রানের খাতা না খুলতেই সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
এক প্রান্তে দৃঢ় ছিলেন শারমিন আক্তার সুপ্তা, তার সঙ্গে চারে নামেন সোবহানা মোশতারি। ৫২ বলে ৩০ রান করা সুপ্তা দলীয় ৫৯ রানের মাথায় আউট হলে বড় চাপ আসে টাইগ্রেসদের ওপর। একের পর এক ব্যাটার দ্রুত ফিরলেও মোশতারি ঠান্ডা মাথায় দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। ধৈর্য ধরে খেলতে খেলতে তুলে নেন দারুণ এক ফিফটি।
অষ্টম উইকেটে তার সঙ্গে যোগ দেন রাবেয়া খান। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান তোলার গতি বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১০৮ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়ে যান মোশতারি। তবে হাল ছাড়েননি রাবেয়া। শেষদিকে খেলেন ঝড়ো এক ইনিংস—মাত্র ২৭ বলে অপরাজিত ৪৩ রান। তার ইনিংসের ওপর ভর করে বাংলাদেশ থামে ১৭৮ রানে। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন সোফি একলেস্টেন।
ইংল্যান্ডের কাছে ১৭৯ রান কষ্টসাধ্য কিছু না। কিন্তু এ কাজটাই কঠিন করে দেন মারুফা আক্তার। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের মতো এই দিনও চমৎকার ইনসুইং এ অ্যামি জোনস ও ট্যামি বেউমোন্টকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন।
এরপর আম্পায়ারের দুটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে এলে গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো।। শূন্য রানে নাইটের ক্যাচ উইকেটের পেছনে নিগার সুলতানা নেওয়ার পর আঙুল তোলেন আম্পায়ার। তবে যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তৃতীয় আম্পায়ার সেই সিদ্ধান্ত বদলে দিলে বেঁচে যান নাইট। এরপর ১৩ রানে তাঁর ক্যাচ মুঠোবন্দি করেন স্বর্ণা আক্তার। কিন্তু টিভি আম্পায়ার ভারতের গায়াত্রী ভেনুগোপালান এবারও একই কারণে আউট দেননি। ম্যাচের পর খোদ নাইটই জানিয়েছেন, তিনিও ভেবেছিলেন আউট হয়ে গিয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত সেই নাইটের অভিজ্ঞতার কাছেই আসলে হেরে গেছে বাংলাদেশ—এমনটা বললেও ভুল হবে না। ৩৪ বছরের নাইট একাই খেলেছেন ১৫০ ওয়ানডে। বাংলাদেশ দল হিসেবেই এ সংস্করণে খেলেছে ৭৯ ম্যাচ।
সপ্তম উইকেটে চার্লি ডিনকে নিয়ে তিনি অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন ৭৯ রানের। ফলস্বরূপ চোখে চোখ রেখে লড়াই করার পরও হার মানতে হয় জ্যোতিদের। ডিন ৫৬ বলে ২৭ আর নাইট ১১১ বলে ৭৯ রানে অপরাজিত থাকেন। এই মাঠেই শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবেন জে্যাতিরা।