ভারত দেশের মানুষের বিরাগভাজন হলে আমাদের কিছু করার নেই

দেড় যুগের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে দ্বিতীয় পর্ব গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে। এ পর্বে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, দলের কূটনৈতিক অবস্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে দলের অবস্থান, দেশ পরিচালনায় সরকারের মূল্যায়ন, ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের কর্মকা-, এমনকি তার পোষা বিড়াল নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ দেশ রূপান্তরে পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘ভারত সরকার যদি স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরাগভাজন হয়, সেখানে আমাদের কিছু করার নেই। বাংলাদেশের মানুষই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের সঙ্গে শীতল থাকবে। আমাকেও আমার দেশের মানুষের সঙ্গেই থাকতে হবে।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ। আমার দেশের স্বার্থই আগে। আমি আমার দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করব, জাতীয় স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নেব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘অবশ্যই আমি আমার পানির হিস্যা চাই। আমি আরেকজন ফেলানীকে সীমান্তে ঝুলতে দেখতে চাই না। আমরা এটা কখনো মেনে নেব না।’

সাক্ষাৎকারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কয়েক মাস আগে একটি মন্তব্য করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আপনার মনে সেই সন্দেহ এখনো আছে?

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন আমি যখন এ কথাটি বলেছিলাম, এই মুহূর্তে আমার যতটুকু মনে পড়ে, সে সময় পর্যন্ত ওনারা কিন্তু নির্বাচনের ব্যাপারে সঠিক কোনো টাইম ফ্রেম বা কোনো কিছু বলেননি। রোডম্যাপ বলতে যা বোঝায়, আমরা নরমালি যা বুঝে থাকি, এ রকম কিছু বলেননি। সে কারণেই শুধু আমার মনের মধ্যেই নয়, আমরা যদি সে সময় বিভিন্ন মিডিয়া দেখি, বিভিন্ন মিডিয়া-ব্যক্তিত্ব দেখি, যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা করেন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে, প্রায় সবার মনের মধ্যেই সন্দেহ ছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যখন দেখলাম যে, অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূস উনি মোটামুটিভাবে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন। পরে বেশ কয়েকবার উনি ওনার যে সিদ্ধান্ত সেটির ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তারপর থেকেই খুব স্বাভাবিকভাবেই এই সন্দেহটি বহু মানুষের মন থেকে ধীরে ধীরে চলে যেতে ধরেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, ওনারা যা বলেছেন, ওনারা যতক্ষণ পর্যন্ত দৃঢ় থাকবেন, ওনাদের বক্তব্যে ও কাজে যত বেশি দৃঢ় থাকবেন, ততই সন্দেহ চলে যাবে আস্তে আস্তে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিষয়টি তো রাজনৈতিক। এটি তো কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়। আমরা প্রথম থেকে যে কথাটি বলেছি, আমরা চাই, এই অন্তর্বর্তী সরকার সফল হোক। অর্থাৎ অনেক কিছুর মতো বিভিন্ন বিষয় আছে যেমন আমরা যদি মূল দুটো বিষয় বলি যে, কিছু সংস্কারের বিষয় আছে, একই সঙ্গে প্রত্যাশিত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বাধীন নির্বাচনের একটি বিষয় আছে।’ তিনি বলেন, ‘মূলত কিছু সংস্কারসহ যেই সংস্কারগুলো না করলেই নয়, এ রকম সংস্কারসহ একটি স্বাভাবিক, সুষ্ঠু, স্বাধীন নির্বাচন করাই হচ্ছে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। আমরা প্রত্যাশা করি, ওনাদের ওপরে যেটা মূল দায়িত্ব, সেটি সঠিকভাবে সম্পাদন করবেন। এটাই তো ওনাদের কাছে আমাদের চাওয়া রাজনৈতিক দল হিসেবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আশা রাখি, প্রত্যাশা করি, ওনারা করবেন কাজটি সুন্দরভাবে। স্বাভাবিকভাবে এ কাজটির সৌন্দর্য বা কতটুকু ভালো, কতটুকু ভালো বা মন্দভাবে করতে পারছেন, তার ওপরেই মনে হয় সম্পর্কের উষ্ণতা বা শীতলতা যেটাই বলেন, সেটা নির্ভর করবে।’

সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার মানে ইন্টেরিম, মানে এটা তো ক্ষণস্থায়ী বিষয়। খুব স্বাভাবিকভাবেই একটি দেশ পরিচালনা বিশাল বিষয়। আমরা ভূখ-ের ভিত্তিতে যদি বিবেচনা করি, হয়তো বাংলাদেশকে অনেকে বলবে ছোট দেশ। কিন্তু আমরা যদি জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিবেচনা করি, বাংলাদেশ পৃথিবীর অনেক ভূখন্ডের চেয়ে বড় দেশ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘ইউকের (যুক্তরাজ্য) জনসংখ্যা সাত কোটির মতো, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্লাস-মাইনাস ২০ কোটির মতো এখন। ইউকের তিন গুণ বড়। এ রকম একটি দেশ পরিচালনা করতে হলে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের ম্যান্ডেটসহ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকার প্রয়োজন। বিভিন্ন বিষয় থাকে, ইস্যুজ থাকে, বিভিন্ন বিষয় আছে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন নির্বাচনের বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের পারফরম্যান্স আপনি যেটা বললেন, সবকিছু বিবেচনা করলে আমার কাছে মনে হয়েছে, হয়তো ওনারা চেষ্টা করেছেন অনেক বিষয়ে। সব ক্ষেত্রে সবাই তো আর সফল হতে পারে না, স্বাভাবিকভাবে ওনাদের লিমিটেশনস কিছু আছে। সেই লিমিটেশনসের মধ্যে ওনারা হয়তো চেষ্টা করেছেন, যতটুকু পেরেছেন হয়তো চেষ্টা করছেন।’

এক-এগারোর সরকার বা সেনাসমর্থিত সরকারের সময়টিকে ঘিরে আপনার মূল্যায়নটা কী জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘এক বাক্যে বা সংক্ষেপে যদি বলতে হয়, এক-এগারোর সরকার তো একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি সরকার ছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সেই সরকার আসলে কীভাবে দেশের যতটুকু, যেমনই হোক, বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যতটুকুই রাজনীতি গড়ে উঠেছিল, গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল, ভুল-ত্রুটি সবকিছুর ভেতর দিয়েই। কিন্তু আমরা দেখেছি যে, কীভাবে তারা সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল, বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল। দেশকে একটি অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। পরে দেখেছি, খুব সম্ভবত তাদেরই ভিন্ন আরেকটি রূপ; অন্যভাবে দেখেছি আমরা ‘ইন দি নেম অব ডেমোক্রেসি’।

কূটনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির মূলনীতি কী হবে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘গুড কোশ্চেন। বিএনপির মূলনীতি একটাই সবার আগে বাংলাদেশ। কূটনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির নীতি সবার আগে বাংলাদেশ। আমার জনগণ, আমার দেশ, আমার সার্বভৌমত্ব। এটিকে অক্ষুন্ন রেখে, এটি স্বার্থ বিবেচনা করে, এই স্বার্থকে অটুট রেখে বাকি সবকিছু।’

এটাকে বৈশ্বিক রাজনীতির প্রভাব বলা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, ওদেরটা ওরা বলেছে, আমি ভাই বাংলাদেশি। আমার কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ বড়, আমার কাছে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ বড়। কাজেই কে কী বলল... সবার আগে বাংলাদেশ, সিম্পল, কমপ্লিকেট (জটিল) করার কিছু নেই, এটা সিম্পল ব্যাপার।’

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বিএনপির রাজনীতির পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বিএনপির অন্যতম মূল লক্ষ্য দেশের গণতন্ত্রের বুনিয়াদ শক্ত করা। আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণ, দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব। আমরা বাংলাদেশের দুটো বিষয় নিয়ে খুব গর্ব করি, অহংকার করি একটি হচ্ছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প ও আরেকটি হচ্ছে প্রবাসীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যে মুদ্রা (রেমিট্যান্স) পাঠান সেটি। এই দুটোই কিন্তু বিএনপি শুরু করেছিল।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বিএনপির সময়ই শুরু হয়েছিল লোকজনের বিদেশ যাওয়া এবং একই সঙ্গে গার্মেন্টস শিল্পের যে প্রসার...। এর বাইরে যদি আমরা দেখি, ১৯৭৪ সালে যে দুর্ভিক্ষটা হয়েছিল, পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তারপর কীভাবে একটা দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন। শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণ না, স্বল্প করে হলেও সে সময় আমরা কিন্তু খাদ্য, চাল রপ্তানি করেছিলাম।’

এ সময় বিএনপির ডি-ফ্যাক্টোপ্রধান বাকশালের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘বিএনপির কাঁধে যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে, তখন কীভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্র আবার ফিরে আসে।’ তিনি অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা অতীতে এই ভালো কাজগুলো করেছি। ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ এ বিষয়গুলো আমলে নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব। ভবিষ্যৎ বিএনপির অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতন্ত্রের একটি শক্তিশালী বুনিয়াদ তৈরি করা।’

তারেক রহমানের কাছে বিবিসি বাংলার প্রশ্ন ছিল, তাকে সম্প্রতি প্রাণী অধিকার রক্ষা নিয়ে বেশ সোচ্চার দেখা গেছে। এ-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের বাইরে পোষা বিড়ালের সঙ্গে তার নিয়মিত ছবি দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এটা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল কীভাবে?

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রথমত এখানে একটু ক্লিয়ার করে নিই, বিড়ালটি আমার মেয়ের বিড়াল। ও এখন অবশ্য সবারই হয়ে গিয়েছে। আমরা সবাই ওকে আদর করি।’

এ বিষয়ে বলতে গিয়ে নিজের ছোটবেলার প্রসঙ্গে টানেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি হচ্ছে, এ রকম শুধু বিড়াল নয়, আমি এবং আমার ভাই যখন ছোট ছিলাম, আমাদের একটি ছোট কুকুরও ছিল। ইভেন, তখন আমাদের বাসায় আম্মা হাঁস-মুরগি পালতেন। ছাগলও ছিল আমাদের বাসায়। উনি ছাগলও কয়েকটি পালতেন। তো স্বাভাবিকভাবেই আপনি যেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বলেন, পোষা কুকুর-বিড়ালই বলেন, বাই দ্য ওয়ে, কবুতরও ছিল আমাদের বাসায়। শুধু কবুতর নয়, আমাদের বাসায় একটি বিরাট বড় খাঁচা ছিল। সেই খাঁচার মধ্যে কিন্তু পাখি ছিল। বিভিন্ন রকমের এবং আবার আরেকটি খাঁচা ছিল, যেটার মধ্যে একটা ময়না ছিল।’

ময়না পাখিটি বরিশাল থেকে আনা হয়েছিল বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ময়নাটা আমরা বরিশাল থেকে এনেছিলাম। ও আবার বরিশালী ভাষায় কথাও বলত। টুক টুক করে মাঝেমধ্যে কিছু কিছু কথাও বলত। কাজেই এ বিষয়টি হঠাৎ করেই না। এই পশুপাখির প্রতি যেই বিষয়টি, এটির সঙ্গে আমি কমবেশি ছোটবেলা থেকে জড়িত আছি। হয়তো এটি এখন প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্নভাবে। বাট, এটির সঙ্গে আমি বা আমার পরিবার, আমরা অনেক আগে থেকেই আছি।’

ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা সংস্কার কমিশন করবে বিএনপি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় এলে শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিশন এবং শিক্ষা কারিকুলাম সংস্কারের লক্ষ্যে শিক্ষাসংস্কার কমিশন গঠন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিএনপি সমর্থিত শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত ‘শিক্ষক মহাসমাবেশে’ তিনি এই কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সমাবেশে শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপিত হয়। তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের বক্তব্যে শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ এবং আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার বিষয় উঠে এসেছে। বেসরকারি শিক্ষকদের আরও বেশ কিছু দাবি রয়েছে। জনগণের ভোটে বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে রাষ্ট্রের সামর্থ্যরে মধ্যে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, চাকরি স্থায়ীকরণ এবং জাতীয়করণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার জন্য আমরা একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে ব্যবহারিক ও কারিগরি শিক্ষার উপযোগী করে ঢেলে সাজাতে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষাসংস্কার কমিশন গঠন করতে চাই। নৈতিকতা এবং ধর্মীয়-সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন ও আধুনিকীকরণে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে, প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে জাতি হিসেবে আমাদের টিকে থাকা কঠিন হবে।’

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শিক্ষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সরকারের উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন এবং দেশের সবচেয়ে সচেতন অংশ শিক্ষক সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন। জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বিএনপি আপনাদের সমর্থন চায়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও জাতিকে গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি, তা সফল করতে আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’

সমাবেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজরা বিত্তবান হলে রাষ্ট্র ও সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। কিন্তু শিক্ষকদের মর্যাদা অক্ষুণœ থাকলে সমাজের মান উন্নত হয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দুর্নীতি নামক ব্যাধি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা সামাজিক বিপ্লব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন করে শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে এজন্য অধ্যাদেশ জারি করা হবে।’

বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষকদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে এই সমাবেশ হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী এতে অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুগিসউদ্দিন চৌধুরীসহ বিভাগ ও জেলার শিক্ষক নেতারা। সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, আফরোজা খান রীতাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।