চীনা যুদ্ধবিমান ক্রয়

জানলেই কি সব বলতে হবে : অর্থ উপদেষ্টা

চীন থেকে ২.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’ একই প্রশ্ন দ্বিতীয়বার করা হলে তিনি প্রতি প্রশ্ন করে বলেন, ‘জানলেই কি সবকিছু বলতে হবে?’

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম এবং ভারত থেকে চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

সাংবাদিকরা জানতে চান, ‘এ সময়ে ফাইটার বিমান কেনার প্রয়োজন কেন?’ জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘সেটা তাদের ব্যাপার। তারা মূল্যায়ন করে কী করছে, আমরা সে বিষয়ে জড়িত নই। আমি শুধু অর্থের সংস্থানের সঙ্গে যুক্ত।’ যুদ্ধবিমান ক্রয়ে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন আমি কিছু বলতে পারব না।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন তাত্ত্বিক বিষয়ে যাব না। দারিদ্র্য বেড়েছে, দারিদ্র্য আছে এসব বলতে গেলে আমাকে অনেক কথা বলতে হবে। আমি জানি তারা কীভাবে দারিদ্র্য পরিমাপ করে। বেস আছে, ক্লায়েন্ট আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি পাঁচ হাজার লোককে ফোন করে সাক্ষাৎকার নিয়ে বললেন দারিদ্র্য বেড়েছে এসব আমি জানি। আমাকে কেউ বলেছিল, স্যার, আপনি একটি প্রতিবেদন লিখুন, আমি বলে দিলে একটি ফার্ম ২০ হাজার উত্তর দিয়ে দেবে কালকের মধ্যে। এগুলো নির্ভরযোগ্যতার বিষয়। তবে আমি অস্বীকার করছি না যে, আমাদের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অমর্ত্য সেন একবার বলেছিলেন, ‘খুব কঠিন দারিদ্র্য পরিমাপ করতে হয় না। দরিদ্র মানুষকে দেখলেই চেনা যায়, তার চেহারায়, তার ভঙ্গিতে।’

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অর্থনৈতিক দিক থেকে আমি স্বস্তিতে আছি। তাই আমরা মোটামুটি আত্মবিশ্বাসী। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যখন মূল্যস্ফীতি ১১-১৪ শতাংশ ছিল, তখন তা কমিয়ে ৮ শতাংশে আনা হয়েছে। যদি এটা ৭ শতাংশে থাকত এবং আমরা ৪ শতাংশে নামাতে পারতাম, তাহলে সবাই খুশি হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভিত্তিটাই খারাপ ছিল। এটাকে কমিয়ে আনা খুব কঠিন ছিল, তবুও আমরা করে ফেলেছি। এ কারণে আমরা এখনো ক্রমাগত খাদ্য ও অখাদ্য দুটোই কমানোর চেষ্টা করছি। অখাদ্য পণ্য কমানো একটু কঠিন। এর মধ্যে বাসভাড়া, পরিবহন, জ্বালানির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় এবং বিদ্যুৎ খাত রয়েছে।’

ওয়াশিংটন সফর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আইএমএফের কাছে আরও কিছু অর্থ পাইপলাইনে রয়েছে। এ ছাড়া এডিবি, এআইডিবি এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান প্রকল্পে কমিটমেন্ট রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে দুটি চুক্তি সই হবে। বাকি বিষয়গুলো আমরা এবার যথারীতি ফলোআপ করব। এবার আলোচনা সাধারণ ফলোআপের জন্য, কোনো বড় ধরনের দরকষাকষির জন্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এবার খুব খোলাখুলি আলোচনা হবে না। নতুন সরকার আসার পর তারা বড় সিদ্ধান্ত নেবে। এটাই আমাদের অবস্থান। অর্থাৎ, বড় ইস্যুগুলো তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।’

নতুন পে-স্কেল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা আমি পরে কোনো একসময় দেখব। যাওয়ার আগে কোনো একসময় বলব।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম ও ভারত থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত : সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম এবং ভারত থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া, ভারত থেকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতী সিদ্ধ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই গম ও চাল আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০ টাকা।

জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্যাকেজ-১-এর আওতায় ৫০ হাজার টন নন-বাসমতী সিদ্ধ চাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ভারতের এম-এস বগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এ চাল আমদানি করা হবে। এ চাল আমদানিতে ব্যয় হবে ২১৯ কোটি ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ টাকা। প্রতি টন চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫৯.৭৭ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এগ্রোক্রপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এ গম আমদানি করা হবে। এ গম আমদানিতে ব্যয় হবে ৮২৫ কোটি ৩১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। প্রতি টন গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০৮ মার্কিন ডলার।