বয়স মাত্র ১৮, কিন্তু এখনই যেন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ব্রাজিলিয়ান তরুণ তারকা এস্তেভাও উইলিয়ান। চেলসির হয়ে লিভারপুলের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার পর এবার জাতীয় দলের সফরেই দেখা গেল তার জনপ্রিয়তার বহর। দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেই ‘এস্তেভাওম্যানিয়া’ ছড়িয়ে পড়েছে—হাজারো সমর্থকের ভিড়ে এই উঠতি ফরোয়ার্ড যেন পূর্ণাঙ্গ এক সুপারস্টার।
বুধবার সিউলে ব্রাজিল দলের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এস্তেভাও। লুকাস পাকেতা, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, রিচার্লিসন ও মার্টিনেল্লির পাশে বসা এই তরুণকে ঘিরে ছিল তুমুল আগ্রহ। হোটেলের বাইরে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল তার জার্সি। দূর প্রবাসে এমন ভালোবাসায় আপ্লুত এস্তেভাও বললেন, 'এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আপনি যখন পৃথিবীর অন্য প্রান্তে, তখন এমন সাড়া পাওয়া স্বপ্নের মতো। আমি যেখানে থেকে এসেছি, সেখানে ভাবতেও পারিনি এমন ভালোবাসা পাব। এটা আমাকে প্রতিদিন আরও অনুপ্রাণিত করে, আরও ভালো খেলোয়াড় হওয়ার জন্য।'
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজেও এখন তার নামের চারদিকে বাড়ছে প্রত্যাশা। বেঞ্চে থাকলেও গ্যালারিতে গুঞ্জন শুরু হয়—'এস্তেভাও নামবে কবে? আর মাঠে নেমে যখনই সুযোগ পান, তা কাজে যেনো লাগান শতভাগ।
গত শনিবার লিভারপুলের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নামেন মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য। আর সেই সময়েই কুকুরেল্লার ক্রস থেকে হেড করে চেলসিকে এনে দেন রোমাঞ্চকর জয়। সেটিই তার ক্লাব ক্যারিয়ারের প্রথম বড় ম্যাচের গোল। 'প্রতিটি ফুটবলার নিজের সেরাটা দিতে চায়। চেলসির হয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করতে পারাটা বিশেষ এক অনুভূতি। এটা আমাকে ও আমার পরিবারকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে', বলেন তরুণ ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিল দলের এশিয়া সফরে এবারও আছেন এস্তেভাও। শুক্রবার সিউল ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবং পরের মঙ্গলবার জাপানের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে সেলেসাও। গত সেপ্টেম্বরেই জাতীয় দলের হয়ে চিলির বিপক্ষে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন তিনি। তবে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজের জায়গা ধরে রাখাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন এস্তেভাও, 'ভিনিসিউস, রদ্রিগো, রাফিনিয়া—সবাই দুর্দান্ত খেলোয়াড়। তাই এখানে জায়গা পাওয়া সহজ নয়। এটা আমার জন্য অনুপ্রেরণা, যাতে আমি আরও কঠোর পরিশ্রম করে দলের অংশ হতে পারি।'
এস্তেভাও বলেন, 'চেলসিতে প্রায় সময়ই আমি ডান দিকে খেলি। অনুশীলনে আগে থেকেই আক্রমণভাগের নানা পজিশনে থাকি, নিজের সামর্থ্যের পরিসর ও দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আমি উইংয়ে খেলেছি, আবার গত ম্যাচে খেলেছি মাঝে। নানা পজিশনে খেলতে আমি প্রস্তুত, দলের জন্য যেটাই প্রয়োজন, ভেতরে কিংবা বাইরে। এখানে, ব্রাজিল জাতীয় দলের সবচেয়ে ভালোর জন্য যা প্রয়োজন সেটাই আমি করব।'