আবুধাবির কারাগারে মৃত্যু

দেশে ফিরল জুলাই আন্দোলনকারী আব্দুল হামিদের লাশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে মৃত্যুর পর দেশে ফিরলেন চট্টগ্রামের রাউজানের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ (৪৫)। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২৮ ফ্লাইটে তার মরদেহ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

বিমান বন্দর থেকে হামিদের লাশ বুঝে নেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী কোহিনূর আকতারসহ আন্দোলনে আটক হয়ে দেশে ফেরত আসা সহকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবারের অন্যান্য সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রবাসী সংগঠনের নেতারাও।

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, আব্দুল হামিদের মরদেহ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হামিদের ছোট ভাই মোহাম্মদ সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার ভাই জুলাই আন্দোলনে আবুধাবিতে বাকি বাংলাদেশিদের সঙ্গে আন্দোলন করেন। সরকার পতনের দুই দিন পর দেশে চলে আসেন। এখানে আসার পর খবর পান সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের যারা আন্দোলনে যুক্ত ছিল তাদের সেখানের সরকার আটক করেছে। এর কিছুদিন পর সরকারের পক্ষ থেকে আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে ব্যবস্থা করা হয়। তবে তাদের অনেকেকেই দেশে পাঠিয়ে দেয় আবুধাবি সরকার। এর কয়েক মাস পর আমার ভাই আবুধাবিতে যাওয়ার সময় সার্জাহ বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। তিনি আমার ভাবিকে ফোন করে জানান তার ওয়ার্ক পারমিটের ফিঙ্গার সে দেশে কাজ করছে না এবং তাকে সেখান থেকে পুলিশ আটক করেছে।

সোহেল আরও জানান, আমার ভাইকে আটক করে নেওয়ার পর মাঝেমধ্যে আমার ভাবিকে কল দিয়ে বলতেন দ্রুত ফিরে আসবেন। এরপর আর আমাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়নি। চার দিন আগে আমাদের আবুধাবির দূতাবাস থেকে জানানো হয় আমার ভাই গত ২২ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন।

আব্দুল হামিদের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার জানান, গ্রেপ্তারের পর থেকে মাত্র দুইবার কথা বলতে পেরেছিলাম। শেষবার বলেছিল, ‘চিন্তা করো না, আমি ফিরে আসব।’ কিন্তু আর ফিরল না—লাশ হয়ে ফিরল।

পরিবারের দাবি, হামিদ কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না। তিনি নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতা তৈরি করতেন।

তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।তবে  দেশ রূপান্তরের হাতে আসা বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবির একটি সার্টিফকেট থেকে জানা যায় তিনি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।