এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে বাড়তি আগ্রহ ছিল অনেকেরই। কেননা বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ বন্ধ করার কৃতিত্ব দাবি করে নিজেকে এ পুরস্কারের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি বলে ঘোষণা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বারবার বলেছেন যে এ বছরের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারটি তারই প্রাপ্য এবং তিনি এ পুরস্কার না পেলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় অপমান’ হবে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞই ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সে দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছিল, এটা সম্ভব নয়। বাস্তবেও ঘটেছে তাই ট্রাম্প নন, শান্তিতে নোবেল জিতলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় নরওয়ের রাজধানী অসলোর নোবেল ইনস্টিটিউট থেকে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য গণতান্ত্রিক অধিকার প্রচার এবং স্বৈরশাসন থেকে ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য তার অবিরাম সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
নরওয়ের নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা একসময় অপেক্ষাকৃত গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ দেশ ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি এক নিষ্ঠুর, কর্র্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে; দেশটির মানুষরা ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। সাধারণ মানুষ যখন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তখন মুষ্টিমেয় শাসক নিজেদের সম্পদ বাড়াচ্ছে। রাষ্ট্রের সহিংস দমনযন্ত্র দেশের নাগরিকদের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলকে পরিকল্পিতভাবে দমন করা হয়েছে নির্বাচনী কারচুপি, আইনি হয়রানি এবং কারাবরণের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য নিবেদিত সংগঠন সুমাতে-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি একবার বলেছিলেন, এটা ছিল বুলেটের বদলে ব্যালটের লড়াই। এরপর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক পদ এবং সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকাকালে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও জনগণের প্রতিনিধিত্বের পক্ষে সর্বদা সোচ্চার থেকেছেন।
২০২৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিল জাপানি সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো। পরমাণু অস্ত্র হামলায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠন বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তার স্বীকৃতি হিসেবে তাদের নোবেল দেওয়া হয়। নোবেল পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয় সুইডিশ রসায়নবিদ ও উদ্যোক্তা আলফ্রেড নোবেলের হাত ধরে। ডিনামাইট আবিষ্কার করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তার অর্জিত সম্পদ মানবকল্যাণে অসাধারণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতির জন্য ব্যয় হবে। আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুসারে, প্রতি বছর নরওয়ের সংসদ দ্বারা নির্বাচিত পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে। জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন, সামরিক বাহিনীর বিলুপ্তি বা হ্রাস এবং শান্তি সম্মেলনের আয়োজন ও প্রসারে যিনি সবচেয়ে বেশি বা সেরা কাজ করেছেন, তাকেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
অর্থনীতিতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে। বিজয়ীরা পাবেন ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনর (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার সমমূল্য) অর্থ, সঙ্গে থাকবে ১৮ ক্যারেটের সোনার পদক ও একটি সম্মাননাপত্র।