ইসলামী ব্যাংকে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে চাকরিচ্যুত চট্টগ্রামের সাড়ে চার হাজার কর্মকর্তা মানবেতর জীবন পার করছে উল্লেখ করে তাদের পুনর্বহালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। চট্টগ্রামের অধিবাসীদের সাথে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ থামাতে চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার সুদৃষ্টি কামনা করে তারা বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর এই নতুন বাংলাদেশে এমন বৈষম্য আমরা মেনে নিতে পারি না।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পক্ষে এস এম এমদাদুল ইসলাম বলেন, সাড়ে চার হাজারের বেশি কর্মকর্তাকে এখন পর্যন্ত টার্মিনেট করা হয়েছে। সবার অ্যাকাউন্টই ফ্রিজ করা হয়েছে। সবাই এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। কেবল চট্টগ্রামে অধিবাসী বলেই আজ আমাদের সাথে এমন অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত কর্মীদের দিয়ে আমাদের বিরূদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তারা আমাদের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে। ছয় দফা দাবি দিয়ে আমরা এক সপ্তাহ ধৈর্য্য ধরেছি। এর মধ্যে ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করা হয়নি।

ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টকে উদ্দেশ্য করে এমদাদুল ইসলাম বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য করবেন না। ইসলামী ব্যাংকের সাফল্যে আমাদের শ্রম ও ঘাম আছে। আমরা চাই না ব্যাংকটি ধ্বংস হয়ে যাক। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে আমরা পথে নামতে বাধ্য হব। তখন আপনারা পালানোর পথ পাবেন না।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা তানজিনা আফরোজ সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বছর খানেক আগে তার মা এবং মাস ছয়েক আগে তার ব্যবসায়ী স্বামী স্ট্রোক করে আংশিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ঘরবন্দী। ব্যাংকের চাকরির সুবাদে অসুস্থ মা ও স্বামীর চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি সংসার ও দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি একাই।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার হিসেবে ইসলামি ব্যাংকের খুলনা জোনাল অফিসে যোগ দেই। এরপর গোপালগঞ্জ শাখায় পোস্টিং হয়। প্রবেশন পিরিয়ড শেষে জুনিয়র অফিসার হিসেবে বিভিন্ন শাখায় কাজ করি। গত সাত বছর কর্মদক্ষতা দেখিয়ে অনেকবার জোনাল ও হেড অফিস থেকে থ্যাংকস লেটার ও পেয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এখন আমাকে অদক্ষ ও অযোগ্য কর্মী হিসেবে ট্যাগ দেয়া হচ্ছে।

তানজিনা বলেন, গত ৭ অক্টোবর আমাকে টার্মিনেট করা হয়েছে। একই সাথে আমার সেলফিন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ও খিদমা কার্ড ব্লক করা হয়েছে। গত মাসে বেতন তুলতে না পারায় এখনো বাসা ভাড়া দিতে পারিনি। ঘরে অসুস্থ স্বামী ও মা, তার ওপর দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ নিয়ে এখন আমি দিশেহারা। এই মাসেই বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে হবে অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে।

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত সহস্রাধিক কর্মকর্তা এ সময় সংবাদ সম্মেলনে ও বাইরে উপস্থিত ছিলেন।