অফিসের নিরন্তর চাপ, শহরের ধুলো-ধোঁয়া আর যানজটের ক্লান্তি মিলেমিশে আজকের মানুষের জীবনকে অনেকটাই যান্ত্রিক করে তুলেছে। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে রাতে বাসায় ফিরেও যেন বিশ্রামের জায়গাটা ঠিকঠাক পাওয়া যায় না। এর মধ্যেই সপ্তাহ গড়িয়ে যায়, আবার নতুন কর্মব্যস্ততায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। ফলে শরীর-মন দুটোই অবসাদে ভুগতে থাকে। এই অবস্থায় দীর্ঘ ছুটি নিয়ে দূরে কোথাও ভ্রমণে যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ কাটাতে দীর্ঘ ভ্রমণ না করলেও চলে—সপ্তাহ শেষে ছোট্ট একটি সফর, অর্থাৎ উইকেন্ড গেটওয়ে, হতে পারে একেবারে কার্যকর উপায়।
স্বল্প সময়ের এই ভ্রমণ আমাদের জীবনযাত্রায় অন্যরকম এক সতেজতা এনে দেয়। প্রকৃতির কাছাকাছি গেলে মনের ভেতর যে শান্তির অনুভূতি জন্ম নেয়, তা সারা সপ্তাহের ক্লান্তিকে মুছে দেয়। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এ ধরনের পরিবেশ পরিবর্তন মস্তিষ্কে সেরোটোনিন বাড়ায়, যার ফলে মন ভালো থাকে এবং মানসিক চাপ কমে যায়। অনেকেই খেয়াল করেছেন, ছোট্ট একটা সফর শেষে অফিসে ফেরার পর কাজের প্রতি আগ্রহ ও মনোযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি থাকে।
বাংলাদেশের শহুরে জীবনে এ ধরনের ভ্রমণের সুযোগও কম নয়। ঢাকার মানুষ চাইলে সপ্তাহান্তে গাজীপুর, মানিকগঞ্জ বা টাঙ্গাইলের কোনো রিসোর্টে যেতে পারেন, কিংবা সন্ধ্যা নামার আগে পদ্মার ঘাটে বসে কয়েক ঘণ্টা কাটাতে পারেন। চট্টগ্রামের বাসিন্দারা খুব সহজেই ফটিকছড়ি, কাপ্তাই লেক বা পার্বত্য এলাকার কোনো নিরিবিলি জায়গায় যেতে পারেন। সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যেই এই সফরগুলো শরীর-মনকে নতুন করে সাজিয়ে দেয়।
ছোট ভ্রমণের উপকারিতাও অনেক। পরিবারের সবাই একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পান, যা কর্মব্যস্ত জীবনে প্রায় হারিয়েই যায়। প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁটাহাঁটি শরীরের জন্য ভালো, আবার মনকেও প্রফুল্ল করে। সবচেয়ে বড় কথা, দীর্ঘ সফরের মতো বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় না, অথচ উপকারিতা কোনো অংশে কম নয়।
এক গবেষক বলছিলেন, ছোট ভ্রমণ আসলে মানুষকে রিচার্জ করার মতো কাজ করে। ব্যস্ত জীবনের মাঝেই এ ধরনের ভ্রমণ মানুষকে নতুন শক্তি জোগায়, যা কাজে এবং ব্যক্তিগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই বলা যায়, উইকেন্ড গেটওয়ে কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আধুনিক জীবনের এক প্রয়োজনীয় অভ্যাস। কয়েক ঘণ্টার সফরই পারে নতুন উদ্যমে আবার কর্মজীবনে ফিরে যেতে সাহায্য করতে।