টানা হার, র‍্যাঙ্কিংয়ে ধস —প্রিয় সংস্করণের বিশ্বকাপে কি খেলতে পারবে বাংলাদেশ 

বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের সবচেয়ে সফল সংস্করণ হিসেবে পরিচিতি গড়ে তুলেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই গর্ব এখন ম্লান। সর্বশেষ ১১ ওয়ানডের ১০টিতে হার ও টানা চারটি সিরিজে পরাজয়—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন পার করছে এক ভয়াবহ সময়।

২০১১ সালে সর্বশেষ টানা চার ওয়ানডে সিরিজ হেরেছিল দলটি—অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। এরপর ২০১৬-১৭ সময়কালে আরেকটি দীর্ঘ ব্যর্থতার ধারা এলেও তখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি ড্র সিরিজে সামান্য স্বস্তি পেয়েছিল বাংলাদেশ।

একসময় ওয়ানডেতে ধারাবাহিক উন্নতির গল্প লিখেছিল বাংলাদেশ। ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত টানা পাঁচটি সিরিজ জিতে নিজেদের ইতিহাসের সেরা সময় কাটিয়েছিল তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ও এসেছিল সেই সময়। 
কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা এখন অতীত। সর্বশেষ আটটি সিরিজে জয়ের মুখ দেখেছে কেবল একবার—২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। বাকি সময়টা ছিল হতাশায় ভরা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরেছে তিনবার, নিউজিল্যান্ডের কাছে দুইবার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেও একটি সিরিজে হেরেছে বাংলাদেশ।

খারাপ ফর্মের প্রভাব পড়েছে সরাসরি র‍্যাঙ্কিংয়েও। ওয়ানডে ফরম্যাটে ১৯ বছরের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশ নেমে গেছে দশ নম্বরে। একসময় নিয়মিত শীর্ষ আটের মধ্যে থাকা দলটি এখন পড়েছে কঠিন সমীকরণের মুখে। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তত শীর্ষ ৯ দলের মধ্যে থাকতে হবে বাংলাদেশকে।

যদি বাংলাদেশ নবম স্থানের নিচে থেকে যায়, তবে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে পারবে না—অংশ নিতে হবে বাছাইপর্বে। আরও জটিল হচ্ছে হিসাবটা, কারণ ২০২৭ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর একটি দক্ষিণ আফ্রিকা। যদি তারাও র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ আটের বাইরে চলে যায়, তাহলে সরাসরি খেলতে পারবে শুধু প্রথম ৮ দল অর্থাৎ বাংলাদেশের কাজটা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

এই অবস্থায় আসন্ন দেড় বছর বাংলাদেশের জন্য হতে যাচ্ছে ওয়ানডে ভাগ্য নির্ধারণের সময়। সামনে আটটি সিরিজে মোট ২৪টি ম্যাচ খেলবে দলটি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যর্থতার পর এবার ঘরের মাঠে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে জয়ের সুযোগ রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে পারলে বাংলাদেশ র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ ওপরে উঠে যেতে পারে।

এরপর ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের করে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ হবে মার্চ–এপ্রিলে ঘরের মাঠে, জুনে অস্ট্রেলিয়া, সেপ্টেম্বরে ভারতকে আতিথ্য দেবে টাইগাররা। জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ হবে দেশের বাইরে।

সব মিলিয়ে এই ২৪ ম্যাচই নির্ধারণ করবে, বাংলাদেশ ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাবে কি না, নাকি আবারও বাছাইপর্বের কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে। তাই প্রতিটি ম্যাচ এখন টাইগারদের জন্য র‍্যাঙ্কিং ও মর্যাদা দুটোই বাঁচানোর লড়াই।

আগামী দেড় বছরে যত ওয়ানডে আছে বাংলাদেশের 
সময়                               বিপক্ষ                 ম্যাচ
অক্টোবর ২০২৫           ওয়েস্ট ইন্ডিজ     ৩
মার্চ–এপ্রিল ২০২৬       পাকিস্তান            ৩
এপ্রিল ২০২৬               নিউজিল্যান্ড        ৩
জুন ২০২৬                  অস্ট্রেলিয়া           ৩
জুলাই ২০২৬               জিম্বাবুয়ে*           ৩
আগস্ট ২০২৬              আয়ারল্যান্ড*       ৩
সেপ্টেম্বর ২০২৬          ভারত                  ৩
নভেম্বর ২০২৬            দক্ষিণ আফ্রিকা*   ৩