গাজায় সংঘর্ষে ফিলিস্তিনি তরুণ সাংবাদিক সালেহ নিহত

গাজা উপত্যকায় হামাস ও দুগমুশ গোত্রের সংঘর্ষে ফিলিস্তিনি তরুণ সাংবাদিক সালেহ আলজাফারাওয়ি নিহত হয়েছেন। নগরীর সাবরা এলাকায় সংঘর্ষের খবর সংগ্রহে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। রবিবার (১২ অক্টোবর) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

১০ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

ফিলিস্তিনি সূত্র আলজাজিরা আরবিকে জানায়, ২৮ বছর বয়সী সালেহ গাজা উপত্যকায় হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ভিডিও ধারণ ও প্রচার করে পরিচিতি পেয়েছিলেন। গাজা নগরীর সাবরা এলাকায় হামাসের সঙ্গে গোত্রের সশস্ত্র সদস্যদের সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করছিলেন তিনি। ওই সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সালেহ।

সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজ আল-জাজিরার পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ‘প্রেস’ লেখা জ্যাকেট পরা সালেহর মরদেহ একটি ট্রাকের পেছনের অংশে পড়ে আছে। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, রবিবার সাবরায় হামাসের নিরাপত্তা বাহিনী ও দগমুশ গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এটি নিশ্চিত করেনি।

গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আল জাজিরা আরবিকে জানায়, গাজা সিটিতে সংঘর্ষে ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অংশ নিয়ে ছিল। যুদ্ধবিরতির পরও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্ক করে বলেছে, গাজা উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন বেশ নাজুক। চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে আল–জাজিরার সঙ্গে আলাপ করেছিলেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সালেহ। তখন গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে হবে করছে। তার আগে সালেহ আল–জাজিরার সঙ্গে গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে নিজের বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

সালেহ বলেছিলেন, এই ৪৬৭ দিনে (যুদ্ধের) আমি যেসব দৃশ্য দেখেছি ও যেসব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, সেসব আমার স্মৃতি থেকে মুছে যাবে না। আমরা যেসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, কখনোই সেগুলো ভুলতে পারব না।

সালেহ আলজাফারাওয়ি ছিলেন গাজা যুদ্ধের সময়কার অন্যতম পরিচিত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক। তিনি গত দুই বছর ধরে নিজের ক্যামেরা ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছেন। যুদ্ধকালে তার ভিডিও ও লাইভ প্রচারের মধ্যে তিনি সকল বিশ্ববাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। তার মিষ্টি হাসি ও শিশুসুলভ আচরণেও অনেকেই আকৃষ্ট হয়েছেন।