মিসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতার উপস্থিতিতে হামাস-ইসরায়েল শান্তি পরিকল্পনা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার মিসরের শারম আল-শেখ শহরে শান্তি সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তিনি। সম্মেলনে প্রায় ৩৫ জন বিশ্বনেতা অংশ নেন। এই শান্তি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সেখানে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইতালি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত। এদিকে, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলছে, দুই বছরের যুদ্ধে গাজায় ৮০ শতাংশেরও বেশি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শান্তি ২০২৫ শিরোনামে আয়োজিত এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এই দুজন ছাড়াও চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানিসহ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা। গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে এ চুক্তি সই হয়। তবে চুক্তিটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, আজ আমরা শুধু এক যুদ্ধের অবসান ঘটালাম না, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এক নতুন ইতিহাস রচনা করলাম। এটি সবচেয়ে বড় চুক্তি, যা টিকে থাকবে ও শান্তির নতুন ভোর এনে দেবে। এর আগে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ইসরায়েল ও হামাস ট্রাম্পের ২০ দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় এরই মধ্যে হামাস ২০ জন জীবিত জিম্মি ও কয়েকজন জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করেছে। ইসরায়েলও প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে।
লোহিত সাগরের তীরবর্তী মিসরীয় পর্যটন শহর শারম আল শেখে অনুষ্ঠিত ‘গাজা শান্তি সম্মেলন’-এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির অপেক্ষায় ছিলাম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ একটি সময়োপযোগী পরিকল্পনা প্রস্তাব করার জন্য। এখন আমরা দেখব পরিকল্পনাটির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটে কি না। যদি ঘটে, সে ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে আমাদের সামনে আর কোনো বাধা থাকবে না। এক কথায় বললে, ইতালি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত এবং বর্তমানে আমরা এর খুব কাছাকাছি আছি। তিনি আরও বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রগঠন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনে অংশ নিতে আগ্রহী ইতালি।
এদিকে গাজা উপত্যকার ৮০ শতাংশেরও বেশি এবং গাজা সিটির ৯২ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। গাজা পুনর্গঠনে কী কী দরকার তার চাহিদা মূল্যায়ন করছে সংস্থাটি। জেনেভায় ইউএনডিপির এক মুখপাত্র গাজার ধ্বংসস্তূপকে ‘বিধ্বংসী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সংস্থাটি অনুমান করছে, সেখানে কমপক্ষে ৫৫ মিলিয়ন বা সাড়ে পাঁচ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ইউএনডিপি বলছে, তারা কিছু অপসারণ শুরু করেছে, কিন্তু অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক তাদের কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার কার্যক্রমের সময় অনেক মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো শনাক্ত ও সমাহিত করা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে তারা। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বব্যাংক পরিচালিত পুনর্গঠন ব্যয়ের একটি অনুমান অনুসারে, গাজাকে আবার বাসযোগ্য করে তুলতে কমপক্ষে ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।